বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হলো 'চর্যাপদ'
এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত একগুচ্ছ গূঢ়ার্থপূর্ণ পদ বা গানের সংকলন। এই কালজয়ী সাহিত্যকর্মটি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
- আবিষ্কার: ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন
- রচনাকাল: ইতিহাসবিদদের মতে, এটি খ্রিষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর (মতান্তরে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী) মধ্যবর্তী সময়ে রচিত হয়েছিল
- ভাষা: চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সান্ধ্য ভাষা' বা 'আলো-আঁধারি ভাষা', কারণ এর অর্থ পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ১৯২৬ সালে ভাষাবিদ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা মূলত প্রাচীন বাংলা
- রচয়িতা: চর্যাপদের মোট ২৪ জন (মতান্তরে ২৩ জন) কবি বা পদকর্তার নাম পাওয়া যায়, যাঁদের মধ্যে লুইপা, কাহ্নপা, ও ভুসুকুপা অন্যতম
- গ্রন্থের নাম: এটি পরবর্তীতে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়