বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ-এ (৮ম–১২শ শতক) সান্ধ্যভাষার (Sandhya Bhasha) বা সন্ধ্যাভাষার প্রয়োগ আছে।
- চর্যাপদ বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধনসংগীত, যেখানে গুপ্ত তত্ত্ব আড়াল করার জন্য রূপক ও ইঙ্গিতে আলো-আঁধারির (গূঢ়) ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ ও চর্যাপদ:
- উদ্দেশ্য: সহজিয়া সাধনার গুপ্ত বা গুহ্য সাধনতত্ত্ব সাধারণের কাছ থেকে গোপন রাখা
- ভাষার প্রকৃতি: এই ভাষা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, আবার পুরোপুরি অন্ধকারও নয়; শব্দের সাধারণ অর্থের নিচে একটি গূঢ় বা আধ্যাত্মিক অর্থ লুকিয়ে থাকে
- উদাহরণ: "কাঅ নগরী" (কায়া-নগরী) বলতে শরীর এবং "হাঁড়ি" বলতে চণ্ডাল বা সাধক—এই ধরণের রূপক ব্যবহার করা হয়েছে।
- সন্ধ্যা বনাম সান্ধ্য: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী একে "আলো-আঁধারের ভাষা" বা "সন্ধ্যা ভাষা" বলেছেন, তবে অনেকে একে "সান্ধ্যভাষা" বা সন্ধ্যা ভাষা (রহস্যময় ভাষা) হিসেবে অভিহিত করেন।
চর্যাপদের ভাষাই বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন, যেখানে এই বিশেষ সাংকেতিক রীতির প্রয়োগ পাওয়া যায়