হিন্দি ও ফারসি কাব্য ধারা থেকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান বা আখ্যানকাব্য ধারার প্রচলন হয়েছে। এই ধারার কাব্যগুলো মূলত ফারসি সাহিত্যের রোমান্টিক কাহিনী এবং হিন্দি কাব্য (যেমন- মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদুমাবৎ) থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলা ভাষায় রচিত ও রূপান্তর করা হয়
প্রধান বৈশিষ্ট্য ও তথ্য:
- প্রতিষ্ঠাতা: চতুর্দশ শতকের শেষে বা পঞ্চদশ শতকের প্রথমে কবি শাহ মুহম্মদ সগীর 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্য রচনার মাধ্যমে এই ধারার সূচনা করেন
- কবি ও কাব্য: আলাওল-এর 'পদ্মাবতী' (হিন্দি পদুমাবৎ-এর অনুবাদ), দৌলত কাজীর 'সতী ময়না ও লোরচন্দ্রানী', এবং বাহরাম খানের 'লাইলী-মজনু' এই ধারার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম
- বিষয়বস্তু: এসব কাব্যে মানব-মানবীর প্রেম, রোমান্টিক অ্যাডভেঞ্চার এবং মানবিক আবেগ প্রাধান্য পেয়েছে।
- প্রেক্ষাপট: এই কাব্যধারাগুলো মূলত আরাকান রাজসভার কবিদের হাত ধরে বিকাশ লাভ করে, যেখানে ফারসি ও হিন্দি সাহিত্যের একটি সংমিশ্রণ দেখা যায়।