'বটতলার পুঁথি' বলতে মূলত উনিশ শতকের দিকে কলকাতার বটতলা এলাকা থেকে সস্তায় মুদ্রিত ও প্রচারিত লোকসাহিত্য বা পুঁথি সাহিত্যকে বোঝায়।
এই পুঁথিগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- ভাষা: এতে আরবি, ফারসি, হিন্দি ও বাংলা শব্দের মিশ্রণে তৈরি এক বিশেষ ধরনের ভাষা ব্যবহৃত হতো, যাকে অনেক সময় 'দোভাষী পুঁথি' বলা হয়।
- মুদ্রণ ও বিপণন: এগুলো অত্যন্ত সস্তা কাগজে এবং সাধারণ কাঠের ব্লকে ছাপা হতো। সাধারণ মানুষের কাছে এগুলো ফেরি করে বা বটগাছের তলায় বিক্রি করা হতো বলেই এর নাম হয়েছে 'বটতলার পুঁথি'।
- বিষয়বস্তু: এতে মূলত লোকগাঁথা, ধর্মীয় কাহিনী (যেমন: কাসাসুল আম্বিয়া), বীরত্বগাথা এবং রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান বর্ণনা করা হতো।
বটতলার পুঁথির জনপ্রিয় লেখকদের মধ্যে সৈয়দ হামজা এবং ফকির গরিবুল্লাহর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।