বড়ু চণ্ডীদাস রচিত ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের বড়াই (বা বড়ায়ি) মূলত রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমের দূতী, অনুঘটক এবং পরামর্শদাতা। সে একজন বৃদ্ধা, অভিজ্ঞ ও চতুর চরিত্র, যে রাধাকে পাহারার আড়ালে কৃষ্ণের কাছে নিয়ে যায় এবং তাদের মিলন ঘটায়। কাব্যে তাকে লোভী, কৌতুকপ্রিয়, রাধার শাশুড়িকে ভয় দেখানো, আবার রাধার বিপদে সহায়তাকারী হিসেবেও দেখা যায়।
বড়াই চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- দূতী ও অনুঘটক: সে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনির প্রধান মাধ্যম, যে কৃষ্ণের মিলনাকাঙ্ক্ষা রাধার কাছে পৌঁছে দেয় এবং প্রেমের সূত্রপাত ঘটায়
- চতুর ও বুদ্ধিমান: বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও সে অত্যন্ত চতুর এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী মত বদলাতে পারে।
- লোভ ও প্রলোভন: সে অধিকাংশ সময় কৃষ্ণের কাছ থেকে উপহার বা সুবিধার লোভে রাধাকে ফুসলিয়ে মিলনের পথে নিয়ে যায়।
- রাধার রক্ষক ও সহায়: রাধার শাশুড়ি জাটিলা-কুটিলার ভয়ে তাকে পাহারার নামে কৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করতে সাহায্য করে।
- রসের জোগানদাতা: রাধা-কৃষ্ণের মিলন ও বিরহের পাশাপাশি বড়াই চরিত্রটি কাব্যে সরস ও কৌতুকপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে হাস্যরসের সৃষ্টি করে।
মূলত, বড়াই হলো রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার আড়ালে থাকা বাস্তববাদী, চতুর ও চালিকাশক্তি একটি চরিত্র, যার প্ররোচনায় ও পরামর্শে কাব্যটির কাহিনী এগিয়েছে।