দোভাষী পুঁথি বলতে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারাকে বোঝায়, যেখানে বাংলা ভাষার ওপর ভিত্তি করে প্রচুর পরিমাণে ফারসি, আরবি, হিন্দি ও উর্দু শব্দের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে।
- মূলত আঠারো ও উনিশ শতকে মুসলিম সমাজে জনপ্রিয় এই সাহিত্যটি ফার্সিকৃত বাংলা শৈলীতে, পয়ার ছন্দে এবং সাধারণ বাংলা লিপিতে রচিত হতো
দোভাষী পুঁথির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- মিশ্র ভাষা: বাংলা ভাষার সাথে প্রচুর বিদেশী (প্রধানত ফারসি ও আরবি) শব্দের ব্যবহার
- বিষয়বস্তু: সাধারণত মুসলিম বীর, পীর-পয়গম্বর ও ঐতিহাসিক চরিত্রদের কাহিনী (যেমন- জঙ্গনামা, ইউসুফ-জুলেখা) উপজীব্য করা হতো
- জনপ্রিয় কবি: ফকির গরীবুল্লাহকে এই ধারার সার্থক ও জনপ্রিয় কবি মনে করা হয়
- উদ্দেশ্য: সাধারণ মুসলমান জনগোষ্ঠীর কাছে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সহজভাবে তুলে ধরা
সহজ কথায়, আরবি-ফারসি ভাষার প্রভাবে তৈরি মিশ্র ভাষার যে কাব্য বা সাহিত্য পুথির আকারে সংরক্ষিত হয়েছে, তাই দোভাষী পুঁথি।