বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিক্ষণের কবি হলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
তাঁকে কেন এই উপাধি দেওয়া হয়েছে, তার কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- দুই যুগের মিলন: তিনি মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণে (১৭৬০-১৮৬০ সাল) সাহিত্য রচনা করেছেন। তাঁর কাব্যে মধ্যযুগের আঙ্গিক ও আধুনিক যুগের জীবনবোধের এক অনন্য সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়।
- বিষয়বস্তুর আধুনিকতা: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তই প্রথম দেবদেবী নির্ভর কাহিনী বর্জন করে সমকালীন সমাজ, মানুষ এবং তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় (যেমন: তপসে মাছ, আনারস, নীলকর) নিয়ে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- মধ্যযুগীয় প্রভাব: বিষয়বস্তু আধুনিক হলেও তাঁর কবিতার ভাষা, ছন্দ এবং অলঙ্কার ছিল মূলত মধ্যযুগীয় বা প্রাচীন ধারার।
- পথপ্রদর্শক: তাঁর মাধ্যমেই বাংলা কবিতা মধ্যযুগের গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকতার পথে পা বাড়ায়, তাই তাঁকে আধুনিক বাংলা কবিতার পথপ্রদর্শক হিসেবেও গণ্য করা হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবেও অভিহিত করেছেন