মাইকেল মধুসূদন দত্তের দেশপ্রেমের প্রবল প্রকাশ মূলত তাঁর সনেট (চতুর্দশপদী কবিতা) ও কাব্যকৃতিতে ফুটে উঠেছে, যেখানে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর আবেগ ও অনুশোচনা ব্যক্ত হয়েছে। ইউরোপে থাকাকালীন মাতৃভাষার প্রতি অবহেলা বুঝতে পেরে তিনি অনুতপ্ত হন এবং "কপোতাক্ষ নদ", "বঙ্গভাষা" প্রভৃতি সনেটে দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আত্মপরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের দেশপ্রেমের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
- সনেটে দেশপ্রেম: তাঁর 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী'-তে দেশপ্রেমের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটেছে। বিশেষ করে "কপোতাক্ষ নদ" কবিতায় শৈশবের স্মৃতি ও দেশের প্রতি আকুল টান অমর হয়ে আছে।
- বাংলা ভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা: পাশ্চাত্যের মোহ ত্যাগ করে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে প্রকৃত সাহিত্য সৃষ্টি মাতৃভাষাতেই সম্ভব। তিনি লিখেছেন—"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন; / তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, / পরধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ / পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি"।
- মেঘনাদবধ কাব্যে দেশপ্রেম: যদিও তিনি মহাকাব্যে পৌরাণিক কাহিনী ব্যবহার করেছেন, কিন্তু রাবণ ও মেঘনাদকে দেশপ্রেমিক এবং ট্রাজিক নায়ক হিসেবে চিত্রিত করে তিনি দেশী ঐতিহ্য ও আদর্শকে তুলে ধরেছেন।
- ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ: ইংরেজি লেখার মোহ কাটিয়ে তিনি পুরোপুরি বাংলায় সাহিত্য চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন এবং ভারতীয় সংস্কৃতির পুনর্জাগরণে ভূমিকা রাখেন।
ইউরোপের চাকচিক্য ছেড়ে তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক রূপকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন, যা তাঁর দেশপ্রেমের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।