- বাংলা মঙ্গলকাব্যে (মনসা, চণ্ডী, ধর্মমঙ্গল) নারী চরিত্রগুলো কেবল ভীরু বা অনুগত নয়, বরং সজীবতা, মমত্ব, ব্যক্তিত্ব এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক।
- বেহুলা, ফুল্লরা, খুল্লনা বা লহনার মতো চরিত্রগুলো তাদের নিজস্বতা, প্রতিবাদী চেতনা এবং কঠোর পরিস্থিতিতে টিকে থাকার ক্ষমতায় মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে অত্যন্ত ব্যক্তিত্বময়ী হিসেবে ভাস্বর হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলকাব্যের অন্যতম ব্যক্তিত্বময়ী নারীচরিত্রসমূহ:
- বেহুলা (মনসামঙ্গল): বাঙালি নারীর সতীত্ব, সাহসিকতা এবং ঐশ্বরিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে অদম্য সংকল্পের প্রতিমূর্তি। লখিন্দরের মৃতদেহ নিয়ে ভেলায় চড়ে দীর্ঘ যাত্রা তার অসামান্য ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়, যা কেবল দেব-ভক্ত নয়, বরং মানবিক প্রেমের জয়গান
- ফুল্লরা (চণ্ডীমঙ্গল): চণ্ডীমঙ্গলে কালকেতুর স্ত্রী ফুল্লরা দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও সততা ও স্বামীর প্রতি নিষ্ঠার অনন্য উদাহরণ। অভাবের সংসারেও তার দৃঢ়তা এবং চণ্ডীর ছলনার মুখেও অটল থাকার মানসিকতা তাকে ব্যক্তিত্বময়ী করে তুলেছে।
- খুল্লনা (চণ্ডীমঙ্গল): সতীন লহনার চক্রান্ত এবং অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করেও সে ধৈর্য ও সততার পরিচয় দিয়েছে, যা তার চরিত্রের কোমলতার আড়ালে থাকা দৃঢ় ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে।
- লহনা (চণ্ডীমঙ্গল): চরিত্রটির মধ্যে সতীন খুল্লনার প্রতি ঈর্ষা থাকলেও, কাহিনীতে সে নিজের আবেগ ও ভুল বুঝতে পারার ক্ষমতা রাখে, যা তাকে একটি জটিল ও জীবন্ত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
- নেতাই ধোপানী (মনসামঙ্গল): স্বর্গের ধোপানী হিসেবে পরিচিত নেতাই হলো জ্ঞান ও কৌশলের প্রতীক। দেব-দেবীর দ্বন্দ্বের মাঝেও তার ধূর্ততা এবং পরামর্শদাত্রীর ভূমিকা তাকে স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব দেয়
মঙ্গলকাব্যের এই নারীরা, বিশেষ করে চণ্ডীমঙ্গলের চরিত্রগুলো, তৎকালীন সমাজের পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতর থেকেও নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল