ব্রজবুলি হলো মধ্যযুগীয় বাংলা ও মৈথিলি ভাষার মিশ্রণে সৃষ্ট এক ধরনের কৃত্রিম কাব্যভাষা। মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এই ভাষার উদ্ভাবক, যা মূলত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলাবিষয়ক পদ রচনার জন্য ব্যবহৃত হতো। এটি কোনো কথ্য ভাষা নয়, বরং সাহিত্যিক ও সুরময় গীতিভাষার একটি রূপ, যেখানে বাংলা শব্দের সাথে মৈথিলি ও অবহট্টের মিশ্রণ ঘটেছে।
ব্রজবুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
- উদ্ভাবক ও ব্যবহার: মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এই ভাষার জনক হলেও, বাঙালি কবিরা ষোড়শ শতক থেকে এই ভাষা চর্চা করেন
- বৈশিষ্ট্য: এটি অত্যন্ত সুমধুর, গীতিময় ও কোমল কান্ত পদাবলি। এতে ব্রজধামের (বৃন্দাবনের) রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির কথা বর্ণিত হয়েছে
- প্রধান কবিগণ: বিদ্যাপতি ছাড়াও বলরাম দাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস কবিরাজ এবং পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী) এই ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছেন
- প্রসার: বাংলা ছাড়াও আসাম (শংকরদেব) এবং উড়িষ্যাতেও ব্রজবুলির চর্চা ছিল
মূলত, বৈষ্ণব পদাবলিতেই ব্রজবুলির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়।