বাংলা ব্যাকরণে বিপরীত শব্দ গঠনের জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ ব্যবহৃত হয়। নিচে প্রধান কয়েকটি উপসর্গের কাজ ও উদাহরণ দেওয়া হলো:
১. অ-: এটি অভাব বা নেতিবাচকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: সচল > অচল, বিশ্বাস > অবিশ্বাস।
২. অনা-: এটিও মূলত অভাব বা বৈপরীত্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: সৃষ্টি > অনাসৃষ্টি, বৃষ্টি > অনাবৃষ্টি।
৩. বি-: এটি বিশেষ অভাব বা বিরুদ্ধতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: জয় > বিজয় (যদিও এখানে ভিন্ন অর্থ, তবে ‘দেশ > বিদেশ’ বা ‘শুদ্ধ > বিশুদ্ধ’ এর মতো ক্ষেত্রে এটি পার্থক্য গড়ে দেয়)। মূলত বিপরীত বোঝাতে: পক্ষ > বিপক্ষ, সদৃশ > বিসদৃশ।
৪. নি-/নিঃ-: অভাব বা নেতিবাচকতা বোঝাতে।
- উদাহরণ: ভয় > নির্ভয়, চয় > নিশ্চয় (অথবা কাম > নিষ্কাম)।
৫. অপ-: মন্দ বা বিপরীত অর্থে।
- উদাহরণ: মান > অপমান, কার > অপকার।
৬. দুর-/দুঃ-: মন্দ বা অভাব অর্থে।
- উদাহরণ: লভ্য > দুর্লভ, গাম্য > দুর্গম।
৭. প্রতি-: বিরুদ্ধতা বা উল্টো বোঝাতে।
- উদাহরণ: কূল > প্রতিকূল, দান > প্রতিদান, ঘাত > প্রতিঘাত।
৮. কু-: মন্দ বা বিপরীত অর্থ প্রকাশে।
- উদাহরণ: পথ > কুপথ, রূপ > কুরূপ।
৯. গর-: এটি একটি বিদেশি উপসর্গ (আরবি), যা অভাব বা বিপরীত বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: মিল > গরমিল, হাজির > গরহাজির।