বাংলা সনের বা বঙ্গাব্দের উদ্ভব এবং নামকরণ সম্পর্কে প্রধানত দুটি মতবাদ প্রচলিত রয়েছে:
১. রাজা শশাঙ্কের নাম থেকে: অনেক ঐতিহাসিকের মতে, ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের সিংহাসন আরোহণের সময় থেকে বঙ্গাব্দের গণনা শুরু হয়। এই মতবাদ অনুসারে, বঙ্গদেশের প্রথম স্বাধীন রাজা শশাঙ্কই এই সনের প্রবর্তক।
২. ‘বঙ্গ’ জনপদ বা তিব্বতি রাজার নাম থেকে: ফরাসি পণ্ডিত সিলভ্যাঁ লেভির মতে, তিব্বতি রাজা স্রং সন ৫৯৫ খ্রিস্টাব্দে মধ্য ও পূর্ব ভারত জয় করেছিলেন। তাঁর নাম ‘সন’ থেকে এবং এই অঞ্চলের নাম ‘বঙ্গ’ যুক্ত হয়ে ‘বঙ্গাব্দ’ বা বাংলা সনের উৎপত্তি হয়েছে বলে তিনি ধারণা করেন [১.১.৩]। তবে আধুনিক অনেক গবেষক এই মতবাদটিকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না [১.৫.৪]।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ফসলি সন: মুঘল সম্রাট আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ১৫৮৪ সালে যে নতুন বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করেন, তা তখন ‘ফসলি সন’ বা ‘তারিখ-এ-ইলাহি’ নামে পরিচিত ছিল । পরবর্তীতে এটিই ‘বাংলা সন’ বা ‘বঙ্গাব্দ’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়
- উৎপত্তি: আধুনিক গবেষকদের বড় একটি অংশ মনে করেন সম্রাট আকবরের নির্দেশে জ্যোতির্বিদ আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজি হিজরি চন্দ্র সনের সাথে সৌর সনের সমন্বয় করে বর্তমান বাংলা সনের কাঠামো তৈরি করেছিলেন