বাংলা ভাষায় ‘ফিরিঙ্গি’ শব্দটি মূলত ইউরোপীয় জাতি বা বিদেশীদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
ঐতিহাসিকভাবে এবং শব্দটির ব্যবহারের বিবর্তনে এর কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে:
- ইউরোপীয় বা পর্তুগিজ: প্রাথমিকভাবে এই শব্দটি দিয়ে পর্তুগিজদের বোঝানো হতো। পরে ব্রিটিশসহ যেকোনো সাদা চামড়ার ইউরোপীয় ব্যক্তিকে নির্দেশ করতে এটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে
- বর্ণসংকর জাতি: ইউরোপীয় (বিশেষত পর্তুগিজ) পিতা এবং ভারতীয় মাতার সন্তানদের বা মিশ্র বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদেরও ফিরিঙ্গি বলা হয়। বাংলাদেশে অ্যাংলো-বেঙ্গলি বা ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত খ্রিষ্টানদের ক্ষেত্রেও এই শব্দটির প্রচলন আছে
- ব্যুৎপত্তি: শব্দটি ফারসি ‘ফিরাঙ্গি’ (فرنگى) থেকে এসেছে, যার মূল উৎস ফরাসি শব্দ ‘ফ্রাঙ্ক’ (Frank)। ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের সময় আরবরা ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের ‘ফ্রাঙ্ক’ বলে ডাকত, যা থেকে ‘ফিরিঙ্গি’ শব্দের উদ্ভব ।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক উদাহরণ:
- অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি: উনিশ শতকের বিখ্যাত কবিয়াল যিনি পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত হয়েও বাংলা লোকসংগীতে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন
- ফিরিঙ্গি বাজার: ঢাকা ও চট্টগ্রামের পুরনো অংশে পর্তুগিজ বা ইউরোপীয় বণিকদের বসবাসের এলাকাগুলো আজও এই নামে পরিচিত