প্রাকৃত' শব্দের অর্থ হলো প্রকৃতির অর্থাৎ জনগণের স্বাভাবিক, সাধারণ ও কথ্য ভাষ।
- এটি সংস্কৃতের অপভ্রংশ বা সহজ রূপ, যা প্রাচীনকালে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ছিল।
- 'প্রকৃতি' (মূল ভাষা বা সাধারণ মানুষ) থেকে উৎপন্ন বলে এই ভাষাকে প্রাকৃত বলা হয়, যা শিষ্টসমাজের সংস্কৃতের বিপরীতে সাধারণ জনগণের মুখের ভাষা ছিল।
প্রাকৃত শব্দের মূল বৈশিষ্ট্য ও অর্থ:
- জনগণের ভাষা: প্রাকৃত বলতে তৎকালীন সাধারণ মানুষের কথ্য রূপকে বোঝায়
- স্বাভাবিক/লৌকিক: যা কৃত্রিম বা পণ্ডিতদের দ্বারা সংস্কৃতের মতো পরিমার্জিত নয়, বরং স্বভাবজাত ও লৌকিক
- উৎপত্তি: সংস্কৃত থেকে এর উৎপত্তি বলে একে "প্রকৃত্যা সিদ্ধ" বা প্রকৃতি থেকে আসা ভাষা বলা হয়
- সময়কাল: এটি খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে খ্রিষ্টীয় দশম শতাব্দী পর্যন্ত প্রচলিত ছিল
সহজ কথায়, সংস্কৃত যদি পণ্ডিতদের পরিমার্জিত ভাষা হয়, তবে প্রাকৃত হলো সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ও কথ্য ভাষা।