বাংলা ভাষায় উচ্চারণের সুবিধার্থে বা অন্য কারণে শব্দের ধ্বনিগত যে পরিবর্তন ঘটে, তা মূলত ৪টি ধারায় বিভক্ত:
- ধ্বনি আগমন (নতুন ধ্বনি আসা),
- ধ্বনি লোপ (ধ্বনি বাদ যাওয়া),
- ধ্বনি রূপান্তর (রূপ বদল), এবং
- ধ্বনি স্থানান্তর (স্থান বদল)।
- এই প্রধান ধারাগুলো উপ-বিভাগে বিভক্ত হয়ে স্বরাগম, স্বরলোপ, ধ্বনি বিপর্যয়, সমীভবন, বিষমীভবন, অভিশ্রুতি ইত্যাদি রূপে দেখা দেয়।
ধ্বনি পরিবর্তনের প্রধান প্রকারভেদ ও রীতি:
- ১. ধ্বনি আগমন (Addition): শব্দের শুরুতে, মধ্যে বা শেষে নতুন স্বর বা ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত হওয়া [৪]।
- স্বরাগম: আদ্য-স্বরাগম (স্টেশন > ইষ্টেশন), মধ্য-স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ (রত্ন > রতন), অন্ত্য-স্বরাগম (সত্য > সত্যি) [১, ৫]।
- ব্যঞ্জনাগম: ওঝা > রোজা, অম্ল > অম্বল [৯]।
- ২. ধ্বনি লোপ (Deletion/Elision): উচ্চারণের দ্রুততায় শব্দের আদি, মধ্য বা অন্ত্যধ্বনি লোপ পাওয়া [৫]।
- স্বরলোপ: অলাবু > লাউ, অগুরু > অগুরু [৩]।
- ব্যঞ্জনলোপ: ফাল্গুন > ফাগুন, গণ্ডগ্রাম > গগ্রাম [১২]।
- ৩. ধ্বনি রূপান্তর ও স্থানান্তর (Transformation/Metathesis):
- ধ্বনি বিপর্যয় (Metathesis): শব্দের মধ্যে দুই ব্যঞ্জনের স্থান অদলবদল (বাক্স > বাস্ক, রিকশা > রিসকা) [৩, ১৫]।
- সমীভবন (Assimilation): শব্দস্থিত দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে সমতা লাভ করে (জন্ম > জম্ম) [৩]।
- বিষমীভবন (Dissimilation): দুটি সমধ্বনির একটি পরিবর্তিত হওয়া (শরীর > শরীল) [৩]।
- অভিশ্রুতি (Umlaut): অপিনিহিতির পরের ধাপ, যেখানে অপিনিহিতি 'ই' বা 'উ' পূর্ববর্তী স্বরের সাথে মিশে যায় (শুনিয়া > শুনি > শুনে) [৩]।
- স্বরসঙ্গতি (Vowel Harmony): এক স্বরের প্রভাবে অন্য স্বরের পরিবর্তন (দেশি > দিশি) [৩]।
এ ছাড়া অপিনিহিতি (অই-উই ধ্বনি আগে উচ্চারণ), নাসিক্যীভবন ইত্যাদি ধ্বনি পরিবর্তনের অন্যতম রীতি