'চৌতিশা' মূলত বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের (১২০১-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) একটি বিশিষ্ট কাব্যধারা। এটি মঙ্গলকাব্য এবং বিভিন্ন কবিদের রচনায় বর্ণানুক্রমিকভাবে (ক থেকে ক্ষ) রচিত দেবদেবীর স্তব, বিরহ বা বিলাপমূলক কবিতার এক বিশেষ শৈলী, যা মধ্যযুগীয় সাহিত্যের জনপ্রিয় খণ্ড-কবিতা রূপ।
মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- বর্ণানুক্রম: বাংলা ৩৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের (ক-হ বা ক-ক্ষ) প্রত্যেকটিকে চরণের শুরুতে রেখে কবিতা রচনা করা হয়।
- বিষয়বস্তু: সাধারণত দেবদেবীর স্তুতি (যেমন- কালীকীর্তন), বিরহ বর্ণনা, বা বারোমাসির সাথে মিলিয়ে নায়ক-নায়িকার কষ্ট বর্ণনা করা হয়।
- প্রচলন: মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর 'কবিকঙ্কণ চণ্ডী', ভারতচন্দ্রের 'অন্নদামঙ্গল' এবং কবি শেখ ফয়জুল্লাহর 'জয়নবের চৌতিশা'য় এর ব্যবহার দেখা যায়।
- অর্থ: 'চৌতিশা' বা 'চৌতিষা' বলতে চৌত্রিশটি ব্যঞ্জনবর্ণের সমষ্টি বা বিলাপ বোঝায়।
মধ্যযুগের কবিরা এই আঙ্গিকে দেবীর কৃপা প্রার্থনা বা ব্যক্তিগত বিরহানুভূতি প্রকাশ করতেন।