কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘মানুষ’ কবিতায় প্রচলিত ধর্মীয় কুসংস্কার, ভণ্ডামি ও উপাসনালয়ের তালাবন্ধ করার মানসিকতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে ‘কালাপাহাড়’-কে স্মরণ করেছেন। তিনি মূলত ভণ্ড মোল্লা-পুরুতদের দৌরাত্ম্য ভেঙে চুরমার করার প্রতীক বা ধ্বংসের প্রতীক হিসেবে কালাপাহাড়কে আহ্বান করেছেন।
বিস্তারিত কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- ভণ্ডামির বিনাশকারী: কালাপাহাড় ছিলেন প্রচলিত ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহী চরিত্র, যিনি দেবালয় বা ভণ্ডামির প্রতীক ভেঙে ফেলার জন্য পরিচিত।
- মানুষ' কবিতায় আহ্বান: কবি ‘মানুষ’ কবিতায় লিখেছেন— "কোথা চেঙ্গিস, গজনী মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়? / ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া দ্বার!"। অর্থাৎ, মানুষের চেয়ে ধর্ম যে বড় নয়, তা বোঝাতে তিনি এই ধ্বংসের প্রতীককে ডেকেছেন।
- ধর্মীয় ভণ্ডামির প্রতিবাদ: উপাসনালয়ে তালা দিয়ে যারা ক্ষুধার্ত মানুষকে ফিরিয়ে দেয়, তাদের দমনের জন্য নজরুল কালাপাহাড়ের মতো কঠোর চরিত্রকে স্মরণ করেছেন।
মূলত, নজরুল সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় অন্ধত্বের বিপরীতে মানবিক চেতনা প্রতিষ্ঠার জন্য কালাপাহাড়ের বিদ্রোহকে প্রতীকীভাবে ব্যবহার করেছেন।