১২০১-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ছিল মূলত ধর্মকেন্দ্রিক, কাব্যপ্রধান ও কাব্যিক
- এই সময়ের সাহিত্যে দেব-দেবী ও পীর-পয়গম্বরের মাহাত্ম্য প্রচার, বৈষ্ণব পদাবলী, অনুবাদসাহিত্য এবং মঙ্গলকাব্য ছিল প্রধান ধারা
- সাহিত্যের মূল উপজীব্য ছিল ধর্মীয় বিশ্বাস, মানব-প্রেম এবং স্থানীয় লোককাহিনী
মধ্যযুগের সাহিত্য ধারার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
- ধর্মকেন্দ্রিকতা ও দেবমাহাত্ম্য: এ যুগের সাহিত্যের মূল সুর ছিল দেব-দেবীর গুণগান, যেমন—মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল কাব্যধারা
- বৈষ্ণব পদাবলী: রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী নিয়ে রচিত পদাবলী বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যা মধ্যযুগের আবেগময় সাহিত্যের পরিচয় বহন করে
- অনুবাদ সাহিত্য: সংস্কৃত রামায়ণ, মহাভারত ও ভাগবতের বাংলা অনুবাদ করা হয়, যার মধ্যে কৃত্তিবাস ওঝার রামায়ণ বিশেষ উল্লেখযোগ্য
- রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান: মুসলমান কবিদের হাত ধরে আরবি-ফারসি উৎস থেকে লাইলী-মজনু, ইউসুফ-জোলেখার মতো মানবীয় প্রেমকাহিনী রচিত হয়
- লোকসাহিত্য ও আখ্যানকাব্য: মৈমনসিংহ গীতিকার মতো লোককাহিনীর পাশাপাশি নাথসাহিত্য এবং বাউল সংগীতের চর্চা ছিল
- আরাকান রাজসভার সাহিত্য: সপ্তদশ শতাব্দীতে আরাকান রাজসভায় দৌলত কাজী ও আলাওলের মতো কবিদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের চর্চা হয়
- প্রধান নিদর্শন: বড়ু চণ্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের অন্যতম প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন
মধ্যযুগের শেষ কবি: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর-কে মধ্যযুগের শেষ কবি হিসেবে গণ্য করা হয়, যার কাব্যে ধর্মীয় আবেগের চেয়ে লৌকিক জীবনের ছাপ বেশি স্পষ্ট