প্রাচীন বাংলা সাহিত্য সৃষ্টির প্রধান ভিত্তি হলো **বঙ্গ বা পূর্ববঙ্গের (বিশেষ করে ঢাকা, বিক্রমপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা) লৌকিক ভাষারীতি, যা পরবর্তীতে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণে সাহিত্যিক রূপ লাভ করে
- এছাড়া পাল আমলে বৌদ্ধ চর্যাপদে মূলত মাগধী প্রাকৃত ও অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার সংমিশ্রণ সাহিত্য হিসেবে প্রসার লাভ করেছিল
- চর্যাপদ (দশম-দ্বাদশ শতাব্দী): এটি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সাহিত্যিক রূপ, যা বাংলা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের লৌকিক ভাষার ওপর ভিত্তি করে রচিত
- মধ্যযুগ (চতুর্দশ-অষ্টাদশ শতাব্দী): এই সময়ে মঙ্গলকাব্য ও বিভিন্ন লৌকিক আখ্যানকাব্য, যা সাধারণত বঙ্গ এলাকার স্থানীয় ভাষারীতি ও সুরে রচিত হতো, সাহিত্য হিসেবে বিকশিত হয়
- আধুনিক যুগ (ঊনবিংশ শতাব্দী-বর্তমান): কলকাতার আশেপাশের ভাষারীতি বা 'কলকাতার চলিত ভাষা' প্রমথ চৌধুরীর হাত ধরে সাহিত্যিক ভাষা হিসেবে ব্যাপক প্রতিষ্ঠা লাভ করে
সারসংক্ষেপ: প্রাচীন যুগে বঙ্গ বা পূর্ববঙ্গের ভাষারীতি এবং আধুনিক যুগে কলকাতার চলিত ভাষারীতি সাহিত্য সৃষ্টির প্রধান মাধ্যম হিসেবে প্রসার লাভ করেছে।