২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করার মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়েছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে।
সারা পৃথিবীতে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ: ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন যে ২০-২১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়, সেখানে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
- গ্যাসের উচ্চমূল্য: প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ঘাটতি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের অন্যতম কারণ। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
- আমদানিনির্ভরতা: অনেক দেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো স্থানীয় উৎপাদন না বাড়িয়ে আমদানির ওপর নির্ভর করায় বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
- সরবরাহ ও মজুত ঘাটতি: যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেল শোধনাগারের সক্ষমতা হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত ফুরিয়ে আসছে।
- বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব: যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম রেকর্ড পর্যায়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি এখন কেবল একটি পণ্য নয়, বরং একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে