সাধু রীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর গুরুগম্ভীর ভাব, তৎসম শব্দের (সংস্কৃত) বেশি ব্যবহার এবং ব্যাকরণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা। এই রীতিতে ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয় (যেমন: 'করিতেছে', 'তাহারা') এবং এটি মূলত লেখ্য ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সাধু রীতির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ক্রিয়াপদের দীর্ঘ রূপ: ক্রিয়াপদের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয় (যেমন: চলিয়াছে, খাইয়াছিল)।
- সর্বনামের পূর্ণরূপ: সর্বনাম পদের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয় (যেমন: যাহাদের, তাহাদের)।
- তৎসম শব্দের প্রাচুর্য: সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার অনেক বেশি থাকে।
- অনুসর্গের পূর্ণরূপ: অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- সুনির্ধারিত ব্যাকরণ: এটি সম্পূর্ণরূপে ব্যাকরণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে।
- নাটক-সংলাপে অনুপযোগী: এটি বক্তৃতার জন্য উপযুক্ত নয়।
- অপরিবর্তনশীল: কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয় ।
সংক্ষেপে, সাধু রীতি হলো মার্জিত ও তৎসম শব্দবহুল লেখ্য বাংলা ভাষা।