-বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় বা সম্বন্ধ
স্থাপনের জন্য শব্দের শেষে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি ছাড়া বাক্য গঠন করা সম্ভব নয়, কারণ বিভক্তি শব্দকে পদে পরিণত করে।
উদাহরণ: 'মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।' — এখানে 'শিশু' শব্দের সঙ্গে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'শিশুকে' পদটি গঠিত হয়েছে।
-বিভক্তির প্রকারভেদ
বাংলা শব্দ
বিভক্তি প্রধানত দুই প্রকার:
১. নাম বিভক্তি বা শব্দ বিভক্তি: প্রাতিপদিক বা
শব্দের শেষে যে বিভক্তি যুক্ত হয়।
২. ক্রিয়া বিভক্তি: ধাতুর শেষে যে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠন করে।
কারক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত শব্দ বিভক্তি ব্যবহার করি। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী শব্দ বিভক্তি সাত প্রকার। নিচে সাত প্রকার বিভক্তির রূপ ও উদাহরণ দেওয়া হলো:
|
বিভক্তির নাম |
বিভক্তির চিহ্ন/রূপ |
উদাহরণ (বাক্যে প্রয়োগ) |
|
১. প্রথমা (শূন্য) |
০, অ |
রহিম বই পড়ে। (রহিম + ০) |
|
২. দ্বিতীয়া |
কে, রে, এরে |
আমাকে একটি কলম দাও। (আমা + কে) |
|
৩. তৃতীয়া |
দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক |
কলম দিয়ে লিখি। (কলম + দিয়ে) |
|
৪. চতুর্থী |
কে, রে (সম্প্রদান অর্থে) |
ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও। (ভিক্ষুক + কে) |
|
৫. পঞ্চমী |
হতে, থেকে, চেয়ে |
গাছ থেকে পাতা পড়ে। (গাছ + থেকে) |
|
৬. ষষ্ঠী |
র, এর |
বাবার কলমটি দাও। (বাবা + র) |
|
৭. সপ্তমী |
এ, য়, তে, এতে |
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুর + এ) |
-গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদাহরণ
১. ছাত্ররা বল খেলে। (প্রথমা
বিভক্তি)
২. আমায় একখানা বই দাও। (দ্বিতীয়া বিভক্তি)
৩. শ্রম বিনা সুখ হয় না। (তৃতীয়া বিভক্তি)
৪. অন্ধজনে দেহ আলো। (চতুর্থী বিভক্তি)
৫. জমি হতে ফসল পাই। (পঞ্চমী বিভক্তি)
৬. বিপদের বন্ধু চেনা কঠিন। (ষষ্ঠী বিভক্তি)
৭. গগনে গরজে মেঘ। (সপ্তমী বিভক্তি)
৮. ডাক্তার ডাক। (প্রথমা/শূন্য বিভক্তি)
৯. লাঙল দিয়ে জমি চাষ করা হয়। (তৃতীয়া বিভক্তি)
১০. গুরুকে ভক্তি করো। (চতুর্থী বিভক্তি)
১১. পাপে বিরত হও। (সপ্তমী বিভক্তি)
১২. দুধের স্বাদ ঘোলে মেটে না। (ষষ্ঠী বিভক্তি)
১৩. দেশের সেবা করো। (ষষ্ঠী বিভক্তি)
১৪. ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অনেক দূর। (পঞ্চমী বিভক্তি)
১৫. তিলে তৈল হয়। (সপ্তমী বিভক্তি)