"লেটো" প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে (বিশেষ করে বর্ধমান, বীরভূম) প্রচলিত এক প্রকার লোকসঙ্গীত ও পালাধর্মী নাট্যদল, যা নৃত্য, অভিনয় ও গানের মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়
- এটি মূলত যাত্রাগানের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ, যা বন্দনার মাধ্যমে শুরু হয়
- কাজী নজরুল ইসলাম শৈশবে লেটো দলে যোগ দিয়ে পালাগান রচনা করেছিলেন
লেটো গান সম্পর্কে বিস্তারিত:
- উৎপত্তি ও অর্থ: 'নাটুয়া' শব্দ থেকে 'নেটো' এবং পরে 'লেটো' শব্দের উদ্ভব, যার অর্থ অভিনয়ধর্মী গান
- বিষয়বস্তু: স্থানীয় লোকগাঁথা, হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী, এবং সামাজিক ঘটনা লেটো গানের মূল বিষয়
- পরিবেশন শৈলী: গীত, বাদ্য, নৃত্য এবং অভিনয়ের মিশ্রণ। সখী, সংদার, পাঠক—এমন বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে পালা পরিবেশন করা হয়
- নজরুল ও লেটো: কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বাল্যকালে কাজী বজলুর করীমের শিষ্য হিসেবে লেটো দলে যোগ দেন, যা তাঁর সাহিত্য জীবনের সূচনা করে
- বর্তমান অবস্থা: আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে এটি হারিয়ে যেতে বসলেও, বীরভূম-মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে এখনও এর চর্চা দেখা যায়
অন্যান্য অর্থ:
গ্রিক পুরাণে, লেটো (Leto) হলেন জিউসের ঔরসজাত এবং অ্যাপোলো ও আর্টেমিসের মাতা, যিনি একজন টাইটান দেবী
গ্রিক পুরাণে, লেটো (Leto) হলেন জিউসের ঔরসজাত এবং অ্যাপোলো ও আর্টেমিসের মাতা, যিনি একজন টাইটান দেবী
সারসংক্ষেপে, লেটো বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতির একটি সমৃদ্ধ ধারা।