মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ (১৯৩৬)-র মূল উপজীব্য হলো পদ্মা নদীর তীরবর্তী কেতুপুর গ্রামের দীন-দরিদ্র জেলে ও মাঝিদের অস্তিত্বের সংগ্রাম, চরম দারিদ্র্য, শোষণ এবং প্রকৃতির নির্মমতার সাথে বেঁচে থাকার আখ্যান।
- এটি একটি আঞ্চলিক ও বাস্তববাদী উপন্যাস, যেখানে মানুষের কামনা-বাসনা ও সম্পর্কের জটিলতা ফুটে উঠেছে
উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য বিষয়সমূহ:
- জীবন সংগ্রাম ও দারিদ্র্য: কুবের মাঝি, গণেশ, মালাদের মত সাধারণ মানুষের অভাব-অনটন এবং প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল জীবনের বাস্তব চিত্র
- পদ্মা নদীর প্রভাব: নদী কেবল পটভূমি নয়, বরং মানুষের সুখ-দুঃখ ও ভাগ্য নির্ধারণকারী এক অমোঘ শক্তি হিসেবে চিত্রিত হয়েছে
- শোষণ ও শ্রেণীবিভেদ: হোসেন মিয়ার মতো চরিত্রদের মাধ্যমে জেলেদের ওপর মহাজন বা দাদন ব্যবসায়ীদের শোষণের চিত্র ফুটে উঠেছে
- মানবিক সম্পর্ক ও মনস্তত্ত্ব: কুবেরের স্ত্রী লক্ষ্মীর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, কপিলা চরিত্রটির সাথে কুবেরের জটিল সম্পর্ক এবং চরিত্রের ভেতরের অসংলগ্নতা
- নতুন জীবনের আশা: পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো মানুষের হোসেন মিয়ার দ্বীপ ‘মইজদীপুর’-এ নতুন জীবনের সন্ধানে পাড়ি জমানোর আকাঙ্ক্ষা
এই উপন্যাসে মেদবাহুল্যতা বর্জন করে চরম বাস্তবতা ও সাংবাদিকসুলভ নির্লিপ্ততায় গ্রামীণ জীবনের গভীর সংকটগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়