বাংলাদেশের ইতিহাস, প্রকৃতি এবং সংস্কৃতির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাড়ির টান ছিল অত্যন্ত গভীর। তাঁর অসংখ্য রচনার পটভূমি ও অনুপ্রেরণা এদেশের মাটি থেকেই নেওয়া। নিচে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রবীন্দ্ররচনা উল্লেখ করা হলো:
১. জাতীয় সংগীত (আমার সোনার বাংলা): ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর ভিত্তি করেই এটি লেখা।
২. ছিন্নপত্র (ও ছিন্নপত্রাবলী): রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ একটি পত্রসাহিত্য। কুষ্টিয়ার শিলাইদহ এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জমিদারি তদারকির সময় তিনি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে যে চিঠিগুলো লিখেছিলেন, তার সংকলন এটি। এতে এদেশের পল্লীপ্রকৃতির অপূর্ব বর্ণনা রয়েছে।
৩. সোনার তরী: এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থগুলোর একটি। এর নাম কবিতাটি (সোনার তরী) কুষ্টিয়ার শিলাইদহের পদ্মানদীতে বসে লেখা হয়েছিল।
৪. গল্পগুচ্ছ: রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের একটি বড় অংশ রচিত হয়েছে শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসরের প্রেক্ষাপটে। 'পোস্টমাস্টার' ও 'ছুটি'-র মতো কালজয়ী অনেক গল্প বাংলাদেশের গ্রামবাংলার পটভূমিতে লেখা।
৫. মানসী ও চিত্রা: এই কাব্যগ্রন্থ দুটির অনেক কবিতাই তিনি শিলাইদহে বোটের (পদ্মা বোট) ওপর বসে লিখেছিলেন।
৬. নৌকাডুবি ও গোরা: এই উপন্যাসের কিছু অংশের পটভূমি ও চরিত্র চিত্রণে বাংলাদেশের নদী ও জনপদের প্রভাব রয়েছে।