বাংলা বর্ণমালার আদি উৎস হলো প্রাচীন ভারতের ব্রাহ্মীলিপি।
- এই লিপি থেকে দীর্ঘ বিবর্তনের মাধ্যমে আজকের আধুনিক বাংলা বর্ণমালা বা লিপি তৈরি হয়েছে।
বাংলা বর্ণমালার উৎপত্তির পর্যায়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
- ব্রাহ্মীলিপি: খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে সম্রাট অশোকের শাসনামলে এই লিপি প্রচলিত ছিল। এটিই ভারতের প্রায় সকল লিপির জননী।
- কুশাণ ও গুপ্ত লিপি: খ্রিষ্টীয় প্রথম-দ্বিতীয় শতকে ব্রাহ্মী লিপি থেকে কুশাণ লিপি এবং পরবর্তীতে চতুর্থ-পঞ্চম শতকে গুপ্ত লিপির সৃষ্টি হয়।
- কুটিল বা সিদ্ধমাতৃকা লিপি: ষষ্ঠ থেকে নবম শতকের মধ্যে গুপ্ত লিপি বিবর্তিত হয়ে কুটিল লিপি (যা সিদ্ধমাতৃকা লিপি নামেও পরিচিত) তৈরি হয়। এই সিদ্ধমাতৃকা লিপি থেকেই মূলত বাংলা লিপির সরাসরি উৎপত্তি ঘটেছে।
- প্রাচীন বাংলা লিপি: একাদশ শতকের দিকে পাল ও সেন আমলে বাংলা লিপির স্বতন্ত্র গঠন শুরু হয়। ১২০৩ খ্রিষ্টাব্দের তুর্কি বিজয়ের পরবর্তী যুগে এটি আরও সুসংহত রূপ পায়।
- আধুনিক রূপ: ১৭৭৮ সালে নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড-এর বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের জন্য চার্লস উইলকিনস এবং পঞ্চানন কর্মকার প্রথম বাংলা মুদ্রণ অক্ষর (টাইপ) তৈরি করেন। পরবর্তীতে ১৮৫৫ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'বর্ণপরিচয়' বইয়ের মাধ্যমে বাংলা বর্ণমালা বর্তমানের সুশৃঙ্খল ও আধুনিক রূপ লাভ করে।