পাকিস্তান আমলে সামরিক শাসনের (বিশেষ করে আইয়ুব খান, ১৯৫৮-১৯৬৯) প্রতিক্রিয়ায় বাঙালি লেখকরা প্রত্যক্ষ সংঘাতের পরিবর্তে রূপক, মিথ (পুরাণ) ও সাংকেতিক ভাষার আশ্রয় নিয়ে শোষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদ জানান।
- শওকত ওসমানের ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাসে বাগদাদের খলিফার মাধ্যমে আইয়ুবের স্বৈরাচারী শাসন ফুটিয়ে তোলা হয়
- তারা রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধের মতো সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিবৃতি ও কলমের মাধ্যমে সোচ্চার ছিলেন
সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সাহিত্যিক প্রতিক্রিয়া:
- রূপক ও মিথ-এর ব্যবহার: সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশ নিষিদ্ধ থাকায় লেখকরা রূপক, প্রতীক ও পৌরাণিক কাহিনীর আড়ালে সামরিক শাসনের স্বরূপ তুলে ধরেন
- শওকত ওসমান: তাঁর ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাসে বাগদাদ নগরের খলিফা হারুন-অর-রশীদের স্বেচ্ছাচারী ভূমিকার আড়ালে মূলত ষাটের দশকের সামরিক শাসনে আবদ্ধ পূর্ববাংলার নিপীড়িত জনগণের বক্তব্য উপস্থাপন করেন
- সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ: রেডিও পাকিস্তান থেকে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধের প্রতিবাদে ১৮ জন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও সাহিত্যিক বিবৃতি প্রদান করেন, যা তৎকালীন পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়
- শিক্ষানীতির বিরোধিতা: ১৯৬২ সালের শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে বাঙালি লেখকরা সোচ্চার ছিলেন, যা স্বাধিকার আন্দোলনের অংশ ছিল
মূলত, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখলের পর দমন-পীড়নের মুখে সাহিত্যিকরা পরোক্ষ ও সাংকেতিক ভাষায় তাদের বক্তব্য প্রকাশ করেন