তৎসম শব্দের বানানে দন্ত্য-স (স)-এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ষ (ষ) ব্যবহারের নিয়মাবলিকে ষত্ব বিধান বলা হয়। ণত্ব বিধানের মতো এটিও কেবল তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
নিচে উদাহরণসহ প্রধান নিয়মগুলো আলোচনা করা হলো:
১. ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পর
অ আ ভিন্ন অন্য স্বরবর্ণ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য-স সাধারণত 'ষ' হয়।
১. অভিষেক (অভি + সেক)
২. অনুষ্ঠান (অনু + স্থান)
৩. বিষাদ (বি + সাদ)
৪. পরিষ্কার (পরি + কার)
৫. সুপ্ত (সু + প্ত = সুপ্ত থেকে সুষুপ্তি)
২. ঋ এবং ঋ-কারের পর
৬. ঋষি (ঋ-এর পর ষ)
৭. বৃষ্টি (ঋ-কারের পর ষ)
৮. সৃষ্টি (ঋ-কারের পর ষ)
৯. দৃষ্টি (ঋ-কারের পর ষ)
৩. র, রেফ (র্) এবং র-ফলার পর
১০. বর্ষা (রেফের পর ষ)
১১. ঘর্ষণ (রেফের পর ষ)
১২. আকর্ষণ (রেফের পর ষ)
১৩. উৎকর্ষ (রেফের পর ষ)
৪. ট-বর্গীয় বর্ণের সাথে যুক্ত অবস্থায়
১৪. কষ্ট (ট-এর সাথে যুক্ত ষ)
১৫. নিষ্ঠা (ঠ-এর সাথে যুক্ত ষ)
১৬. স্পষ্ট (ট-এর সাথে যুক্ত ষ)
১৭. অষ্ঠ (ঠ-এর সাথে যুক্ত ষ)
৫. স্বভাবতই 'ষ' হয় এমন শব্দ (নিয়ম বহির্ভূত)
১৮. আষাঢ়
১৯. মানুষ
২০. ভাষী/ভাষা
মনে রাখা জরুরি: আরবি, ফারসি বা ইংরেজি থেকে আসা বিদেশি শব্দে কখনোই 'ষ' হয় না (যেমন: জিনিস, মাস্টার, পুলিশ) । এছাড়া 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে (যেমন: অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ) দন্ত্য-স অপরিবর্তিত থাকে।