অলুক তৎপুরুষ সমাস হলো এমন এক ধরনের তৎপুরুষ সমাস যেখানে ব্যাসবাক্যে ব্যবহৃত পূর্বপদের বিভক্তি (দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত) সমস্তপদ গঠনের পরেও লোপ পায় না, অর্থাৎ অপরিবর্তিত থাকে।
উদাহরণ
-গায়ে পড়া = গায়ে + পড়া (এখানে 'গায়ে' পদে 'এ' বিভক্তি লোপ পায়নি).
-ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়ে + ভাজা (এখানে 'ঘিয়ে' পদে 'এ' বিভক্তি লোপ পায়নি).
-কলে ছাঁটা = কলে + ছাঁটা (এখানে 'কলে' পদে 'এ' বিভক্তি লোপ পায়নি).
-কানে কালা = কানে + কালা (এখানে 'কানে' পদে 'এ' বিভক্তি লোপ পায়নি).
-হাতেখড়ি = হাতে + খড়ি (এখানে 'হাতে' পদে 'এ' বিভক্তি লোপ পায়নি).
-চোখের বালি = চোখের + বালি (এখানে 'চোখের' পদে 'এর' (ষষ্ঠী) বিভক্তি লোপ পায়নি).
-সোনার বাংলা = সোনার + বাংলা (এখানে 'সোনার' পদে 'এর' (ষষ্ঠী) বিভক্তি লোপ পায়নি).
-মনের মানুয় = মনের + মানুয় (এখানে 'মনের' পদে 'এর' (ষষ্ঠী) বিভক্তি লোপ পায়নি).
-জলে ভাসা = জলে + ভাসা (এখানে 'জলে' পদে 'এ' বিভক্তি লোপ পায়নি).
-মাথায় পাগড়ি = মাথায় + পাগড়ি (মাথায় থাকা পাগড়ি) (এখানে 'মাথায়' পদে 'এ' বিভক্তি লোপ পায়নি).
-বনে বাঘ = বনে + বাঘ (বনে বাঘ) (এখানে 'বনে' পদে 'এ' বিভক্তি লোপ পায়নি).
-পথে লোক = পথে + লোক (পথে থাকা লোক) (এখানে 'পথে' পদে 'এ' বিভক্তি লোপ পায়নি).
-গাছে গাছে = গাছে + গাছে (এখানে 'গাছে' পদে 'এ' বিভক্তি লোপ পায়নি) (অলুক দ্বন্দ্বের উদাহরণ হলেও, বিভক্তি লোপ না পাওয়ার কারণে একই নিয়মের আওতাভুক্ত).
মূল বৈশিষ্ট্য:
বিভক্তি লোপ পায় না: সাধারণ তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পেলেও, অলুক তৎপুরুষে তা অক্ষুণ্ণ থাকে.
পরপদ প্রধান: এই সমাসে পরপদের অর্থই প্রধান হয়, যেমন 'ঘিয়ে ভাজা' বলতে ভাজা বস্তুকে বোঝানো হয়, ঘি-কে নয়.