চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস হলো এমন একটি সমাস যেখানে পূর্বপদে 'কে', 'রে', 'জন্য', 'নিমিত্ত' ইত্যাদি চতুর্থী বিভক্তি বা অনুসর্গ লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। যেমন: গুরুকে ভক্তি (গুরুভক্তি), আরামের জন্য কেদারা (আরামকেদারা), বিয়ের জন্য পাগলা (বিয়েপাগলা) ইত্যাদি, যা মূলত কোনো কিছু উদ্দেশ্যে বা জন্য সম্পর্ক বোঝায় এবং এটি তৎপুরুষ সমাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকারভেদ।
গঠন ও প্রকৃতি:
-পূর্বপদ: চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে, জন্য, নিমিত্ত) যুক্ত থাকে।
-ব্যাসবাক্য: বিভক্তি বা অনুসর্গটি স্পষ্ট থাকে (যেমন: 'কে', 'জন্য')।
-সমাসবদ্ধপদ: পূর্বপদের বিভক্তি বা অনুসর্গটি উধাও হয়ে যায়।
-অর্থ: প্রায়শই উদ্দেশ্য, নিমিত্ত বা উপকার/অপকার সম্পর্ক প্রকাশ পায়।
উদাহরণসহ
-গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি (গুরু-এর জন্য ভক্তি/উদ্দেশ্যে ভক্তি)
-আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা (আরামের উদ্দেশ্যে কেদারা)
-বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা (বিয়ের উদ্দেশ্যে পাগল)
-হজের জন্য যাত্রা = হজযাত্রা (হজের নিমিত্ত যাত্রা)
-রাজাকে সম্মান = রাজসম্মান (রাজার জন্য/উদ্দেশ্যে সম্মান)
-গরুর জন্য গাড়ি = গড়গাড়ি (গরুর উদ্দেশ্যে/জন্য ব্যবহৃত গাড়ি)
-দুধের জন্য মাছি = দুধমাছি (দুধের জন্য আসা মাছি)
-শত্রুকে দমন = শত্রুদমন (শত্রুর জন্য/উদ্দেশ্যে দমন)
-শিক্ষকের জন্য সম্মান = শিক্ষাসম্মান (শিক্ষকের উদ্দেশ্যে সম্মান)
-পাকের জন্য রান্না = পাকরাঁন্না (পাকের/রান্নার উদ্দেশ্যে)
-খাবারের জন্য ব্যবস্থা = খাবারের ব্যবস্থা (খাবারের উদ্দেশ্যে)
দেশের জন্য কাজ = দেশকাজ (দেশের উদ্দেশ্যে কাজ)
গুরুত্বপূর্ণ: চতুর্থী ও দ্বিতীয়া তৎপুরুষে প্রায়শই 'কে' বিভক্তি ব্যবহৃত হয়, কিন্তু দ্বিতীয়াতে ব্যাপ্তি বা গন্তব্য বোঝায় (যেমন: 'স্কুলকে যেয়ে') আর চতুর্থীতে উদ্দেশ্য বা নিমিত্ত বোঝায় (যেমন: 'গুরুকে ভক্তি'), যা পার্থক্য করতে সাহায্য করে।