--মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী অংশ লোপ পায় এবং এটি কোনো তৃতীয় ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়।
--যে বহুব্রীহি সমাসে ব্যাসবাক্যের অর্থ-প্রকাশক মধ্যপদ (যেমন: 'দেওয়া হয়', 'ন্যায়', 'আছে', 'যে') সমস্তপদে বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে। এটি ব্যাসবাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তে একটি বিশেষ গুণ বা বৈশিষ্ট্যযুক্ত তৃতীয় ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, যা কর্মধারয় সমাসের মধ্যপদলোপী রূপ থেকে ভিন্ন, কারণ এটি অন্য পদকে বোঝায়।
--উদাহরণ
-গায়ে হলুদ (গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে) - একটি সামাজিক প্রথাকে বোঝায়।
-হাতেখড়ি (হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে) - দীক্ষা বা শিক্ষার সূচনাকে বোঝায়।
-বিড়ালচোখী (বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যার) - বিড়ালের মতো চোখওয়ালা নারীকে বোঝায়।
-সোনাক্ষি (সোনার ন্যায় মূল্যপূর্ন অক্ষি যার) - মূল্যবান চোখবিশিষ্ট নারীকে বোঝায়।
-মেনিমুখো (মেনি বিড়ালের মতো মুখ যার) - লাজুক বা ভীরু মুখওয়ালা ব্যক্তিকে বোঝায়।
-চৌচালা (চার চালা আছে যার) - চার চালাবিশিষ্ট ঘর বা বাড়ি বোঝায়।
--জন্মাষ্টমী (জন্ম হয়েছে অষ্টমীর দিনে যার) - শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিকে বোঝায় (এটি বহুব্রীহি হলেও মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ের উদাহরণ হিসেবেও আসতে পারে, তবে এখানে তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করছে)।
-রুদ্রাক্ষী (রুদ্র রূপ হইতে অক্ষি যার) - রুদ্রের মতো চোখ যার (শিবকে ইঙ্গিত করে)।
-পদ্মনাভ (পদ্মনাভিতে যার) - পদ্ম যার নাভিতে আছে, অর্থাৎ বিষ্ণু।
-চক্রপাণি (চক্র পাণিতে যার) - যার হাতে চক্র আছে, অর্থাৎ বিষ্ণু বা সুદર્શનধারী।
-শীতলপাদ (শীতল পা আছে যার) - যার পা শীতল, অর্থাৎ আরামদায়ক।
-দীর্ঘজীবী (দীর্ঘ আয়ু যার) - যার আয়ু দীর্ঘ (দীর্ঘায়ু ব্যক্তি)।
-অক্ষয়পাত্র (অক্ষয় পাত্র আছে যার) - যার কাছে অক্ষয় পাত্র আছে (দেবতাকে বোঝানো হতে পারে)।
-মহাস্থবির (মহা স্থবির যার) - যিনি খুব ধীর বা স্থির (সাধারণত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ক্ষেত্রে)।
-কুশলকামী (কুশল কামনা করে যে) - যে ভালো চায় (মঙ্গলকামী)।
এই উদাহরণগুলোতে ব্যাসবাক্যের 'দেওয়া হয়', 'ন্যায়', 'আছে', 'যার' ইত্যাদি অংশ লোপ পেয়ে একটি নতুন, তৃতীয় অর্থ তৈরি করেছে, যা মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের বৈশিষ্ট্য।