-দ্বিগু সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হয় এবং সমাসটি সমাহার বা সমষ্টি অর্থ প্রকাশ করে।
-দ্বিগু সমাসের সংজ্ঞা: যে সমাসে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয় এবং সমস্তপদটি সমাহার বা সমষ্টি অর্থ বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
প্রকারভেদ:
দ্বিগু সমাস প্রধানত দুই প্রকার:
১. সমাহার দ্বিগু (Samahar Digu):
এই প্রকার দ্বিগু সমাসে সংখ্যাবাচক পদটি একটি সমাহার বা সমষ্টিকে বোঝায়, যেখানে সমস্তপদটি একটি বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীকে নির্দেশ করে। এটি সাধারণত নিত্য সমাস বা অপ্রাণিবাচক শব্দে বেশি দেখা যায়। উদাহরণ:
-চৌরাস্তা: চারি রাস্তার সমাহার।
-ত্রিকাল: তিন কালের সমাহার।
-নবরত্ন: নয় রত্নের সমাহার।
-সপ্তাহ: সাত অহের (দিনের) সমাহার।
-ষড়ঋতু: ছয় ঋতুর সমাহার।
-পঞ্চনদ: পাঁচ নদীর সমাহার।
-পঞ্চভূত: পাঁচ ভূতের সমাহার।
২. তরদ্বিগু (Tarat Digu):
এই প্রকার দ্বিগু সমাসে সংখ্যাবাচক পদটি একটি বিশেষ বস্তুর বা ব্যক্তির গোষ্ঠী বোঝায়, যেখানে সংখ্যাটি বিশেষ্যের বিশেষণ হিসেবে কাজ করে। এটি সাধারণত প্রাণীবাচক শব্দে বা নির্দিষ্ট বস্তুবাচক শব্দে দেখা যায়। উদাহরণ:
-পঞ্চবটী: পাঁচ (সংখ্যা) বট (গাছ) এর সমাহার/গোষ্ঠী (পাঁচটি বট গাছের সমাহার)।
-পঞ্চপট্টি: পাঁচ পট্টির (কাপড়ের টুকরো) সমাহার।
-ত্রিফলা: তিন (সংখ্যা) ফল (ফল) এর সমাহার (তিনটি ফলের সমষ্টি)।
-তেমাথা: তিন (সংখ্যা) মাথা (মাথার) সমাহার/গোষ্ঠী।
-চৌচৌকা: চার (সংখ্যা) চৌকা (চৌকাঠ) এর সমাহার।
-দ্বাদশ: দুই (সংখ্যা) দশ (দশকের) সমাহার/গোষ্ঠী (দ্বাদশ = ১২)।
-দ্বিপদী: দুই (সংখ্যা) পদ (পদ/চরণ) এর সমাহার।
-ষড়চক্র: ছয় (সংখ্যা) চক্র (চক্র) এর সমাহার/গোষ্ঠী।
-বিশেষ দ্রষ্টব্য: আধুনিক বাংলা ব্যাকরণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের একটি প্রকার হিসেবে ধরা হয়, যেখানে সংখ্যাবাচক পদটি কর্ম বা অবজেক্ট হিসেবে কাজ করে (যেমন 'দশানন' – দশ আননের সমাহার)।