কর্ম কারক হলো যা কর্তা ক্রিয়া সম্পাদনের জন্য আশ্রয় করে। কর্তা যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। "কী" বা "কাকে" দিয়ে প্রশ্ন করলে কর্ম কারক পাওয়া যায়। যেমন: "আমি ভাত খাই" (মুখ্য কর্ম) এবং "শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন" (গৌণ কর্ম)। এর বিভিন্ন বিভক্তি (যেমন: '-কে', '-রে') ও উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো, যা বাক্যে কর্মের ভূমিকা স্পষ্ট করে।
কর্ম কারকের প্রকারভেদ
কর্ম কারককে প্রধানত দুই ভাগে এবং বিশেষ ব্যবহারের ভিত্তিতে আরও চার ভাগে ভাগ করা যায়
১. মুখ্য কর্ম ও গৌণ
কর্ম: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে বস্তুবাচক কর্মটি মুখ্য
কর্ম (যেমন: কলম) এবং প্রাণিবাচক কর্মটি গৌণ কর্ম (যেমন: আমাকে)
২. সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: সাধারণ বাক্যের
কর্ম (যেমন: নাসিমা ফুল তুলছে)
৩. প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: কর্তা অন্যকে দিয়ে
কাজ করালে যে কর্ম হয় (যেমন: ছেলেটিকে বিছানায়
শোয়াও)
৪. সমধাতুজ কর্ম: ক্রিয়া ও কর্ম একই
ধাতু থেকে উৎপন্ন হলে (যেমন: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি)
৫. উদ্দেশ্য ও বিধেয় কর্ম: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার
পরস্পর অপেক্ষিত দুটি পদের মধ্যে প্রধানটি উদ্দেশ্য কর্ম এবং
অন্যটি বিধেয় কর্ম (যেমন: দুধকে [উদ্দেশ্য] দুগ্ধ [বিধেয়] বলি)
কর্ম কারকের উদাহরণ
১. আমি ভাত খাই।
২. হাবিব সোহেলকে মেরেছে।
৩. নাসিমা ফুল তুলছে।
৪. বাবা আমাকে একটি কলম কিনে
দিয়েছেন।
৫. ডাক্তার ডাক।
৬. তাকে বলো।
৭. খুব এক হাসি হাসলাম। (সমধাতুজ
কর্ম)
৮. ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
৯. পুলিশ চোরকে ধরেছে।
১০. সে বই পড়ছে।
১১. ধোপাকে কাপড় দাও। (যেহেতু
কাপড় ফেরত পাওয়া যাবে)
১২. ঘোড়া গাড়ি টানে।
১৩. মা শিশুকে চাঁদ
দেখাচ্ছেন।
১৪. হলুদকে বলি হরিদ্রা।
১৫. আমরা গান শুনছি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অনেক সময় কর্ম কারকের বিভক্তি 'দ্বারা', 'দিয়ে' ইত্যাদি হলেও সেটি করণ কারক হতে পারে। বাক্যের অর্থের ওপর নির্ভর করে কারক নির্ণয় করা হয়।