কর্মধারয় সমাস হলো এমন একটি সমাস যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই মুখ্য হয়, যা সাধারণত "যিনি-তিনি", "যে-সে", "রূপ", "ন্যায়", "মতো" ইত্যাদি ব্যবহার করে ব্যাসবাক্য গঠন করে।
যেমন:
"পরম যে ঈশ্বর = পরমেশ্বর",
"নীল যে উৎপল = নীলকমল",
"সিংহ চিহ্নিত যে আসন = সিংহাসন" ইত্যাদি উদাহরণ কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত।
উদাহরণ ও প্রকারভেদ
কর্মধারয় সমাসের বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে:
সাধারণ কর্মধারয় সমাস (বিশেষণ + বিশেষ্য): ব্যাসবাক্য: 'যে', 'যিনি', 'যাহা' ইত্যাদি যুক্ত থাকে। উদাহরণ: নরোত্তম: উত্তম যে নর, কাঁচাপাকা: কাঁচা যে পাকা, মিঠানুন: মিঠা যে নুন।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস: ব্যাসবাক্যের মধ্যপদটি লোভ পায়। উদাহরণ: সিংহাসন: সিংহ চিহ্নিত যে আসন (এখানে 'চিহ্নিত' পদটি লোপ পেয়েছে), কলাবউ: কলা দিয়ে তৈরি বউ।
উপমান কর্মধারয় সমাস: উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের তুলনা করা হয়, কিন্তু সাধারণ গুণবাচক পদের উল্লেখ থাকে না। উদাহরণ: করকমল: কমল-এর ন্যায় কর, চরণপদ্ম: পদ্ম-এর ন্যায় চরণ
উপমিত কর্মধারয় সমাস: উপমেয় ও উপমান উভয়ই থাকে, কিন্তু সাধারণ গুণের উল্লেখ থাকে না এবং ব্যাসবাক্যে 'ন্যায়', 'মত' ইত্যাদি বসে। উদাহরণ: নরসিংহ: নর-এর ন্যায় সিংহ, মুখচন্দ্র: মুখের ন্যায় চন্দ্র,
রূপক কর্মধারয় সমাস: উপমান ও উপমেয় অভেদ কল্পনা করা হয় এবং 'রূপ' শব্দটি বসে। উদাহরণ: মনমাঝি: মন রূপ মাঝি, বিষাদসিন্ধু: বিষাদ রূপ সিন্ধু।
চেনার সহজ উপায়-
-পরপদের অর্থই প্রধান হয়।
-ব্যাসবাক্যে 'যে', 'যিনি', 'তিনি', 'রূপ', 'ন্যায়', 'মতো' ইত্যাদি শব্দ থাকে।
-বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন ঘটে।
-অনেক সময় বিশেষণ পদটি বিশেষ্যের পূর্বে বসে।