- বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সম্পর্ককে কারক বলে। কারক বোঝানোর জন্য সাধারণত বিভক্তি (যেমন -এ, -কে, -র) বা অনুসর্গ (যেমন -থেকে, -দিয়ে, -চেয়ে) যুক্ত হয়। যা বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সম্পর্ক বোঝায় এবং বিভক্তি বা অনুসর্গ যোগে গঠিত হয়; যেমন—"জমিদার গিন্নি প্রতিদিন ভাঁড়ার থেকে নিজ হাতে গরিবদের চাল দিতেন।" বাক্যে জমিদার গিন্নি (কর্তা), চাল (কর্ম), নিজ হাতে (করণ), গরিবদের (সম্প্রদান), ভাঁড়ার থেকে (অপাদান), প্রতিদিন (অধিকরণ) কারক উদাহরণ।
-বাংলায় কারক ছয় প্রকার:
- কর্তৃ কারক: ক্রিয়া সম্পাদন করে যে।
- উদাহরণ: আমি বই পড়ি। (কে বই পড়ে? আমি)।
- কর্ম কারক: ক্রিয়া যার ওপর পড়ে।
- উদাহরণ: শিক্ষক ছাত্রকে পড়ান। (কাকে পড়ান? ছাত্রকে)।
- করণ কারক: ক্রিয়া সম্পাদনের সহায়ক উপকরণ।
- উদাহরণ: সে কলম দিয়ে লেখে। (কী দিয়ে লেখে? কলম দিয়ে)।
- সম্প্রদান কারক: যাকে নিঃস্বার্থভাবে কিছু দেওয়া হয়।
- উদাহরণ: ভিখারীকে ভিক্ষা দাও। (কাকে ভিক্ষা দাও? ভিখারীকে)।
- অপাদান কারক: যেখান থেকে কিছু বিচ্যুত বা অপসারিত হয়।
- উদাহরণ: গাছ থেকে ফল পড়ে। (কোথা থেকে পড়ে? গাছ থেকে)।
- অধিকরণ কারক: ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান, কাল, পাত্র বা বিষয়।
- উদাহরণ: সকালে শিশির পড়ে। (কখন পড়ে? সকালে)।