ইয়ং বেঙ্গল বা নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী হলো ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে কলকাতার হিন্দু কলেজের শিক্ষক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর (Henry Vivian Derozio) ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত ও অনুগামী একদল প্রগতিশীল, যুক্তিবাদী ও চরমপন্থী বাঙালি যুবকের সংগঠন।
- ডিরোজিওর অনুসারী বলে এঁরা 'ডিরোজিয়ান' (Derozians) নামেও পরিচিত ছিলেন।
ইয়ং বেঙ্গল সম্পর্কে মূল তথ্য:
- প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্ব: ১৮২০-এর দশকের শেষের দিকে হিন্দু কলেজে ডিরোজিওর শিক্ষাদান থেকে এই চিন্তাধারার সূত্রপাত।
- উদ্দেশ্য: হিন্দুসমাজের প্রচলিত রক্ষণশীলতা, কুসংস্কার, অস্পৃশ্যতা ও অন্ধবিশ্বাসের বিরোধিতা করা এবং পাশ্চাত্য উদারনৈতিক শিক্ষা, যুক্তি, ও স্বাধীনতার প্রসার ঘটানো।
- কর্মসূচি: এঁরা নারীদের শিক্ষা, বাক-স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং পাশ্চাত্য দর্শনের পক্ষে প্রচার চালাতেন।
- উল্লেখযোগ্য সদস্য: কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, রাধানাথ শিকদার, রামগোপাল ঘোষ প্রমুখ।
- পত্র-পত্রিকা: তাঁদের মতবাদ প্রচারের জন্য জ্ঞানান্বেষণ, বেঙ্গল স্পেকটেটর (Bengali Spectator), কুইল (Quill) ইত্যাদি পত্রিকা প্রকাশিত হতো।
- প্রভাব: ১৮৩১ সালে ডিরোজিওর মৃত্যুর পরেও এই গোষ্ঠী সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলায় আধুনিক চিন্তাধারার সূচনায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।
সংক্ষেপে, ইয়ং বেঙ্গল ছিল বাংলার নবজাগরণের এক চরমপন্থী, যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল আন্দোলন যা সমাজ সংস্কারে আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিল