উপমান কর্মধারয় সমাসে উপমান (যার সাথে তুলনা করা হয়) ও উপমেয় (যার তুলনা করা হয়) পদের মধ্যে তুলনা বোঝাতে 'ন্যায়' বা 'সদৃশ' শব্দ থাকে এবং তুলনাটি বাস্তব হয়। যখন উপমান (প্রসিদ্ধ বস্তু) ও উপমেয় (তুলনার বিষয়) পদের মধ্যে 'ন্যায়', 'সদৃশ', 'মত', 'যেন' ইত্যাদি তুলনাবাচক শব্দ থাকে এবং তুলনাটি বাস্তব হয়, তখন তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। ব্যাসবাক্যে উপমান পদটি (বিশেষণ) মুখ্য থাকে এবং সমস্তপদে বিশেষ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন বিশেষণ তৈরি করে।
উদাহরণ:
১. তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র (তুষারের মতো শুভ্র)
২. অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা (অরুণের মতো রাঙা)
৩. রক্তের ন্যায় লাল = রক্তলাল (রক্তের মতো লাল)
৪. চন্দনের মতো স্নিগ্ধ = চন্দনস্নিগ্ধ (চন্দনের মতো স্নিগ্ধ)
৫. শশকের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত (শশকের মতো দ্রুত)
৬. কজ্জলের ন্যায় শ্যাম = কজ্জলশ্যাম (কাজলের মতো কালো)
৭. বজ্রের ন্যায় কঠিন = বজ্রকঠিন (বজ্রের মতো কঠিন)
৮. শিশিরের ন্যায় স্বচ্ছ = শিশিরস্বচ্ছ (শিশিরের মতো স্বচ্ছ)
9. শঙ্খের ন্যায় ধবল = শঙ্খধবল (শঙ্খের মতো সাদা)
১০. ফুলের ন্যায় কোমল = ফুলকোমল (ফুলের মতো কোমল)
১১. নদীবহমান (নদীর ন্যায় বহমান)
১২. মেঘের ন্যায় ঘন = মেঘঘন (মেঘের মতো ঘন)
১৩. হাসির ন্যায় উজ্জ্বল = হাসিউজ্জ্বল (হাসির মতো উজ্জ্বল)
উদাহরণ বিশ্লেষণ:
-"তুষারশুভ্র" শব্দে 'তুষার' (উপমান) 'শুভ্র' (উপমেয়-এর বিশেষণ) পদের সাথে যুক্ত হয়ে 'তুষারের ন্যায় শুভ্র' অর্থ প্রকাশ করছে, যেখানে তুলনাটি বাস্তব।
-"রক্তলাল" শব্দে 'রক্ত' (উপমান) 'লাল' (বিশেষণ) পদের সাথে যুক্ত হয়েছে, যা রক্তের মতো লাল রং বোঝায়।
*এই উদাহরণগুলো থেকে বোঝা যায় যে উপমান কর্মধারয় সমাসে উপমান পদটি সাধারণত বিশেষণ হিসেবে কাজ করে এবং উপমেয়ের গুণ বা ধর্মকে নির্দেশ করে।