অমিত্রাক্ষর ছন্দ হলো বাংলা কবিতার এমন একটি শৈলী যেখানে চরণের শেষে অন্ত্যমিল থাকে না এবং ভাব প্রবহমান থাকে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত এই ছন্দের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—প্রতি চরণে ১৪ মাত্রার (৮+৬) বিন্যাস, যতিচিহ্নের স্বাধীন ব্যবহার, এবং এক চরণের ভাব পরবর্তী চরণে বয়ে চলা।
অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- অন্ত্যমিলহীনতা: এই ছন্দের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো চরণের শেষে কোনো মিল বা মিল খুঁজে পাওয়া যায় না
- ভাবের প্রবহমানতা (Enjambment): পয়ারের মতো এখানে চরণের শেষে যতিচিহ্ন বা ভাব থেমে থাকে না। এক চরণের অর্থ বা ভাব পরবর্তী চরণের শুরুতে গিয়ে শেষ হয়, যাকে "রানিং লাইন" বা প্রবহমান ছন্দ বলা হয়
- ১৪ মাত্রার বিন্যাস: অমিত্রাক্ষর ছন্দে প্রতি পঙ্ক্তিতে সাধারণত ১৪ মাত্রা থাকে, যা ৮+৬ মাত্রার দুটি পর্বে বিভক্ত
- যতিচিহ্নের স্বাধীন ব্যবহার: চরণের যেখানে ইচ্ছা যতিচিহ্ন ব্যবহার করা যায়, যা পয়ার ছন্দের মতো বাধ্যবাধকতা মানে না
- মূলত অক্ষরবৃত্ত: এটি মূলত অক্ষরবৃত্ত ছন্দের একটি রূপভেদ
উদাহরণ (মেঘনাদবধ কাব্য):
"সম্মুখ সমরে পড়ি, মিত্রবর,
খাইনু যে বিষম খড়্গ, কেমনে করিব
বিস্মরণ?"
"সম্মুখ সমরে পড়ি, মিত্রবর,
খাইনু যে বিষম খড়্গ, কেমনে করিব
বিস্মরণ?"
সহজ কথায়, এটি হলো এমন একটি ছন্দ যা গদ্যের মতো সাবলীল, কিন্তু ছন্দের নিয়ম মেনে চলে।