-যাকে
স্বত্ব ত্যাগ করে (অধিকার ছেড়ে দিয়ে) কোনো কিছু দান, অর্চনা বা সাহায্য করা হয়, তাকে সম্প্রদান
কারক বলে। এক্ষেত্রে
দাতা বস্তুর ওপর নিজের অধিকার সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেন।
(দ্রষ্টব্য: আধুনিক অনেক ব্যাকরণবিদ
সম্প্রদান কারককে আলাদা কারক হিসেবে স্বীকার না করে একে ‘কর্ম কারক’-এর
অন্তর্ভুক্ত মনে করেন।)
-সম্প্রদান কারকের প্রকারভেদ
সম্প্রদান
কারককে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. ব্যক্তিবাচক সম্প্রদান: যেখানে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে দান করা হয়। (যেমন:
ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও)।
২. বস্তুবাচক সম্প্রদান: যে বস্তুটি দান করা হচ্ছে (এটি মূলত কর্ম কিন্তু
সম্প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত)।
৩. উদ্দেশ্যবাচক সম্প্রদান: কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে দান বা নিবেদন। (যেমন: মোক্ষলাভের
নিমিত্তে কাজ করা)।
-সম্প্রদান কারকের উদাহরণ
১. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও।
(স্বত্ব ত্যাগ করে দান)
২. দরিদ্রকে ধন দাও।
৩. সৎপাত্রে কন্যা দান করো।
৪. অন্ধজনে দেহ আলো। (অন্ধকে সাহায্য করা অর্থে)
৫. মৃতজনে দেহ প্রাণ।
৬. আর্তে সেবা করো।
৭. ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও।
৮. দেবতাকে নৈবেদ্য দাও।
৯. অসহায়কে সাহায্য করো।
১০. গুরুকে দক্ষিণ দাও।
১১. ব্রাহ্মণকে দান করো।
১২. অনাথকে বস্ত্র দাও।
১৩. তৃষ্ণার্তকে জল দাও।
১৪. মন্দিরে দান করো।
১৫. সমিতিতে চাঁদা দাও। (যদি সেই চাঁদা আর ফেরত পাওয়ার আশা না থাকে)
-যদি স্বত্ব ত্যাগ না করে কিছু দেওয়া হয়, তবে তা সম্প্রদান কারক না হয়ে কর্ম কারক হবে। যেমন: "ধোপাকে কাপড় দাও।" এখানে কাপড় ধোয়ার পর ফেরত পাওয়া যাবে, তাই এটি কর্ম কারক।