ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (Demographic Dividend) বা জনমিতিক লভ্যাংশ হলো কোনো দেশের জনসংখ্যার কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা। যখন কোনো দেশে নির্ভরশীল জনসংখ্যার (শিশু ও বৃদ্ধ) তুলনায় কর্মক্ষম জনসংখ্যা (১৫-৬৪ বছর বয়সী) বেশি থাকে, তখন একে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলা হয়। এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে পারলে দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়।
মূল বিষয়সমূহ:
- সংজ্ঞা: কর্মক্ষম মানুষের (১৫-৬৪ বছর) সংখ্যা অ-কর্মক্ষম মানুষের তুলনায় বেশি হওয়া।
- সুযোগ: এটি একটি জাতির জীবনে একবারই আসে, যখন জনসংখ্যাগত ভারসাম্য দেশের উন্নয়নের পক্ষে থাকে।
- বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: বাংলাদেশ বর্তমানে এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক বোনাসকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে (২০১২ সালে শুরু হয়েছে), যা ২০৩০-২০৩৫ সাল পর্যন্ত থাকতে পারে।
- শর্ত: এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সঠিক শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, অন্যথায় এটি বেকারত্বের চাপে পরিণত হতে পারে।
সুফল:
- দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: উৎপাদনশীলতা বাড়ার ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।
- সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি: নির্ভরশীল মানুষ কম থাকায় পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় বাড়ে।
- মানবপুঁজি উন্নয়ন: শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপর বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
এটি একটি দেশের জন্য "সুযোগের জানালা" (Window of Opportunity), যা ঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারলে জনমিতিক দুর্যোগ বা "ডেমোগ্রাফিক ট্যাক্স"-এ পরিণত হতে পারে।