কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহ বা প্রেমের কবি নন, তিনি ছিলেন সূক্ষ্ম রসবোধ ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের জাদুকর। তাঁর হাসির লেখনী সামাজিক অসংগতি, ভণ্ডামি, রাজনৈতিক বিকার ও শোষণের বিরুদ্ধে চাবুকের মতো কাজ করেছে। বিশেষ করে পুবের হাওয়া এবং 'চন্দ্রবিন্দু' কাব্যগ্রন্থে তাঁর এই রূপ ফুটে উঠেছে, যেখানে রসহাস্যের মোড়কে সমাজের কদর্য রূপটি তুলে ধরা হয়েছে
নজরুলের হাসি ও ব্যঙ্গের প্রধান দিকসমূহ:
- সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গ: "আনন্দময়ীর আগমনে" বা "ভাঙ্গার গান" এর মতো রচনায় তিনি ব্রিটিশ বিরোধী চেতনাকে ব্যঙ্গের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন
- ব্যঙ্গাত্মক কাব্যগ্রন্থ: ১৯২৪ সালে প্রকাশিত 'চন্দ্রবিন্দু' কাব্যগ্রন্থটি নজরুলের হাসি ও ব্যঙ্গধর্মী কবিতার প্রধান সংকলন
- রসিকতা ও কৌতুক: তিনি ব্যক্তিগত জীবনেও চরম হাসিখুশি ছিলেন এবং ভীষণ রাগের পরেও বালকের মতো হাসতে পারতেন।
- রচনার ধরন: তাঁর ব্যঙ্গ কবিতাগুলো তির্যক, সংক্ষুব্ধ এবং সামাজিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, যা পাঠককে হাসির পাশাপাশি ভাবিয়ে তোলে
নজরুলের ব্যঙ্গ শুধু আনন্দ দেওয়ার জন্য নয়, বরং তা ছিল সমাজকে সচেতন করার একটি বলিষ্ঠ হাতিয়ার।