সেলিম আল দীনের নাটকের মূল শিল্পতত্ত্ব হলো 'দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পরীতি'।
- তিনি বাংলা নাটকের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও দেশজ উপাদান ব্যবহার করে পাশ্চাত্য প্রসেনিয়াম নাট্যরীতির বাইরে এক নিজস্ব, মহাকাব্যিক ও আখ্যানধর্মী নাট্যধারা (কথানাট্য) তৈরি করেছেন, যা বহু শিল্পের সংমিশ্রণে গঠিত।
সেলিম আল দীনের নাট্যতত্ত্বের প্রধান দিকসমূহ:
- দ্বৈতাদ্বৈতবাদ: এটি এমন এক শিল্পদর্শন যা প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের শিল্পচিন্তার সংমিশ্রণ এবং বাংলা জনপদের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো একসাথে মিশে থাকার দর্শন।
- মহাকাব্যিক বাস্তবতা (Epic Realism): তিনি নাটকে বাস্তবতার চেয়ে আখ্যানধর্মী বা মহাকাব্যিক শৈলী (যেমন: কেরামত মঙ্গল, চাকা) ব্যবহার করেছেন, যা সামাজিক অসংগতির খতিয়ান তুলে ধরে।
- কথানাট্য বা 'টক-প্লে' (Kathya-Natya): নব্বইয়ের দশকে তিনি এই ধারার প্রবর্তন করেন, যা সাধারণ মানুষের ভাষা এবং লোকজ ঐতিহ্য (গল্প, গান, নৃত্য, অভিনয়) নিয়ে গঠিত।
- অ-এরিস্টটলীয় শিল্পরীতি: এরিস্টটলের ত্রয়ী-ঐক্য (স্থান, কাল, পাত্র) ভেঙে তিনি বাংলা লোকজ নাট্যরীতির (যাত্রা, পাঁচালী) আঙ্গিক ব্যবহার করেছেন।
- শিকড় সন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গি: তিনি মধ্যযুগের বাঙলা নাট্যরীতির উপর গবেষণা করে বাংলা নাটকের আপন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন, যা নিম্নবর্গের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলে।
- রচনাবলী: কিত্তনখোলা, যৈবতী কন্যার মন, হাতহদাই, চাকা, বনপাংশুল, নিমজ্জন প্রভৃতি নাটকে তার এই নিজস্ব শিল্পতত্ত্বের সার্থক রূপায়ণ দেখা যায়।
তার নাট্যতত্ত্ব বাংলা নাটকের নিজস্ব ধারা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী প্রয়াস হিসেবে স্বীকৃত।