তৎপুরুষ সমাস হলো এমন একটি সমাস যেখানে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। যেমন: 'রাজার পুত্র' = 'রাজপুত্র'। এটি প্রধানত ছয় প্রকার (২য়া থেকে সপ্তমী বিভক্তি অনুসারে) এবং কিছু অপ্রধান প্রকারও (যেমন: অলুক, উপপদ) আছে, যার প্রতিটি কারক বিভক্তির লোপ বা অব্যয়/কৃদন্ত পদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়।
তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদ (বিভক্তি অনুসারে)
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ: পূর্বপদের 'কে', 'রে' বিভক্তি লোপ পায়। উদাহরণ: দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
তৃতীয়া তৎপুরুষ: পূর্বপদের 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি বিভক্তি লোপ পায়। উদাহরণ: মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, মন গড়া।
চতুর্থী তৎপুরুষ: পূর্বপদের 'জন্য' বিভক্তি লোপ পায়। উদাহরণ: বইয়ের জন্য আলয় = বইআলয়।
পঞ্চমী তৎপুরুষ: পূর্বপদের 'হইতে', 'থেকে' বিভক্তি লোপ পায় (উদাহরণ কম, তবে 'বিদ্যা হতে বিচ্যুত' = 'বিদ্যচ্যুত' হতে পারে)।
ষষ্ঠী তৎপুরুষ: পূর্বপদের 'এর', 'র' বিভক্তি লোপ পায়। উদাহরণ: রাজার পুত্র = রাজপুত্র, ভাতের অভাব = ভাতঘুম।
সপ্তমী তৎপুরুষ: পূর্বপদের 'এ', 'য়' বিভক্তি লোপ পায়। উদাহরণ: গাছে পাকা = গাছপাকা, মনে রাখা = মন রাখা।
অপ্রধান প্রকারভেদ
নঞ তৎপুরুষ: 'ন', 'না', 'নীল' ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয় যুক্ত হয়। উদাহরণ: ন'অভাব = অভাব, ন'জানা = অজানা।
উপপদ তৎপুরুষ: কৃদন্ত পদের (যেমন: 'চর', 'দ', 'জ') সঙ্গে উপপদের (বিশেষ্য) সমাস হয়। উদাহরণ: জলে চরে যা = জলচর, পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
অলুক তৎপুরুষ: সমস্ত পদে বিভক্তি লোপ পায় না। উদাহরণ: গায়ে হলুদ, জলে ভাসা।
প্রাদি তৎপুরুষ: 'প্র', 'প্রতি' ইত্যাদি উপসর্গ পূর্বপদে থাকে। উদাহরণ: প্র + পরা = প্রপরা।
মধ্যপদলোপী তৎপুরুষ: পদের মধ্যবর্তী পদ লোপ পায়। উদাহরণ: বাঘের ভয়ে ভীত = বাঘভীত।
তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ (যেমন: পুত্র, প্রাপ্ত, মাখা) প্রধান হয় এবং পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়, যা তাকে অন্যান্য সমাস থেকে আলাদা করে।