-বহুব্রীহি সমাস হলো এমন এক প্রকার সমাস, যেখানে পূর্বপদ বা পরপদের কোনোটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে তৃতীয় একটি বিশেষ অর্থ বোঝায়।
-যেমন 'বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি'; এটি মূলত সমানাধিকরণ, ব্যধিকরণ, ব্যতিহার, নঞ্, মধ্যপদলোপী, সংখ্যাবাচক পূর্বক ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত, যা বিভিন্ন উদাহরণ (যেমন: 'নীলকণ্ঠ' = নীল কণ্ঠ যার = শিব; 'শশঙ্ক' = শশ (খরগোশ) অঙ্ক (চিহ্ন) যার = চাঁদ) দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।
-সংজ্ঞা: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর (পূর্বপদ ও পরপদ) কোনোটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে একটি নতুন, তৃতীয় অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। উদাহরণ:
-নীলকণ্ঠ: নীল কণ্ঠ যার = শিব (এখানে 'নীল' বা 'কণ্ঠ' কোনোটির অর্থ মুখ্য নয়, 'শিব' বোঝানো হচ্ছে)।
-শশঙ্ক: শশ (খরগোশ) অঙ্ক (চিহ্ন) যার = চাঁদ (এখানে 'শশ' বা 'অঙ্ক' মুখ্য নয়, 'চাঁদ' বোঝানো হচ্ছে)।
-চন্দ্রচূড়: চন্দ্র চূড়া যার = শিব (চন্দ্র ও চূড়া কোনোটিই মুখ্য নয়, শিবকে বোঝানো হচ্ছে)।
বহুব্রীহি সমাসের প্রকারভেদ ও উদাহরণ
১. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে এই সমাস হয়। উদাহরণ: সুন্দর হৃদয় যার = সুহৃদ; নীলकंঠ যার = নীলকণ্ঠ (শিব)।
২. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি: উভয়পদ (পূর্বপদ ও পরপদ) বিশেষ্য হলে এই সমাস হয়। উদাহরণ: কীতে (কীট) পড়া হয়েছে (ছেঁড়া) যার = কীতপতাকা; শুক্তি (শুক্তি) সদৃশ চক্ষু যার = শুক্তিচক্ষু।
৩. ব্যতিহার বহুব্রীহি: পরস্পর একই জাতীয় কাজ বোঝালে এই সমাস হয় (সাধারণত 'আ'-কারান্ত বা 'এ'-কারান্ত রূপ হয়)। উদাহরণ: হাতে হাতে = হাতিহাতি; হাতে হাতে লড়াই = হাতিহাতি।
৪. নঞ্ (না-বাচক) বহুব্রীহি: না-বাচক অব্যয় (অ, না, নি) যুক্ত হয়ে এই সমাস গঠিত হয়। উদাহরণ: অজ্ঞান (নেই জ্ঞান যার); নিরামিষ (নয় আমিষ যার)।
৫. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: সমস্তপদ গঠনের সময় মধ্যপদ লুপ্ত হয়। উদাহরণ: হাতে যে কর্ম = হস্তকর্ম; বিচিত্র কর্ম যার = বিচিত্রকর্মা (বিচিত্র কর্ম যার)।
৬. সংখ্যাবাচক পূর্বক বহুব্রীহি: পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হলে এই সমাস হয়। উদাহরণ: চৌ (চার) মুখ যার = চৌমুখো; সপ্ত ঋষি = সপ্তর্ষি (সপ্ত ঋষি)।