-যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। সহজ কথায়, কোনো কিছু থেকে বিয়োগ বা আলাদা হওয়া বোঝালে তা অপাদান কারক হয়।
-অপাদান কারকের প্রকারভেদ
অপাদান কারককে মূলত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
১. স্থানবাচক
অপাদান: যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত বা আলাদা হয়। (যেমন: গাছ থেকে ফল পড়ে)।
২. কালবাচক অপাদান: যে নির্দিষ্ট সময় থেকে কোনো কাজ শুরু হয়। (যেমন: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু)।
৩. দূরত্ববাচক অপাদান: এক স্থান থেকে অন্য স্থানের ব্যবধান বা দূরত্ব বোঝাতে।
(যেমন: ঢাকা থেকে সিলেট অনেক দূর)।
-অপাদান কারকের উদাহরণ
১. গাছ থেকে পাতা পড়ে।
(বিচ্যুত অর্থে)
২. মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে। (বিচ্যুত অর্থে)
৩. দুধ থেকে দই হয়। (গৃহীত বা রূপান্তরিত অর্থে)
৪. ঝিনুক থেকে মুক্তো মেলে। (গৃহীত অর্থে)
৫. জমি থেকে ফসল পাই। (জাত বা উৎপন্ন অর্থে)
৬. তিলে তৈল হয়। (জাত অর্থে)
৭. পাপে বিরত হও। (বিরত অর্থে)
৮. বিপদে মোরে রক্ষা করো। (রক্ষিত অর্থে)
৯. শনিবার থেকে স্কুল ছুটি। (আরম্ভ অর্থে)
১০. বাঘকে ভয় পায় না কে? (ভীত অর্থে)
১১. চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। (ভীত বা বিমুখ অর্থে)
১২. দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে। (দূরীভূত অর্থে)
১৩. বিপদ থেকে বাঁচাও। (রক্ষিত অর্থে)
১৪. বোঁটা আলগা ফল গাছে থাকে না। (বিচ্যুত অর্থে)
১৫. লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। (জাত
বা কারণ অর্থে) [১]
-মনে রাখার কৌশল: ক্রিয়াকে 'কোথা হতে', 'কী হতে' বা 'কিসের থেকে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই অপাদান কারক। এটি সবসময় 'বিয়োগ' বা 'মাইনাস' সম্পর্ক প্রকাশ করে।