বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের ফাঁদে (Middle-Income Trap) পড়ার ঝুঁকি মূলত পুঁজি বৃদ্ধি সত্ত্বেও মোট উৎপাদনশীলতার (Total Factor Productivity - TFP) বৃদ্ধি ধীর গতির হওয়ার কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে যুক্ত। এর মানে হলো, বিনিয়োগ বাড়লেও প্রযুক্তি, দক্ষতা ও উদ্ভাবনের অভাবে উৎপাদনশীলতা সেই অনুপাতে বাড়ছে না।
ঝুঁকির মূল কারণসমূহ:
- কম উৎপাদনশীলতা: শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতে শ্রমশক্তির উৎপাদন ক্ষমতা কম, যা উন্নয়নের গতি মন্থর করে।
- রপ্তানি ও পণ্যের বৈচিত্র্যহীনতা: তৈরি পোশাক খাতের (RMG) ওপর অতি-নির্ভরশীলতা এবং নতুন বাজার বা পণ্য অনুসন্ধানে ধীরগতি।
- মানবসম্পদ ও শিক্ষার মান: শিক্ষার নিম্নমান এবং কারিগরি দক্ষতার অভাবে দক্ষ কর্মীবাহিনীর অভাব, যা উচ্চ-প্রযুক্তির শিল্পায়নে বাধা।
- সুশাসনের অভাব: শ্বেতপত্র কমিটির মতে, নীতি ও সুশাসনের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা।
২০২৬ সালে এলডিসি (LDC) থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্যে প্রাপ্য সুবিধা কমে যাওয়া এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, যা এই ফাঁদ এড়াতে অপরিহার্য।