-‘করণ’ শব্দের অর্থ— যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। কর্তা যার সাহায্যে বা যে উপায়ের দ্বারা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কী দিয়ে' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে করণ কারক পাওয়া যায়।
-করণ কারকের প্রকারভেদ
করণ কারককে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. যন্ত্রাত্মককরণ: কোনো যন্ত্র বা উপকরণের সাহায্যে কাজ করলে। (যেমন: কাঁচি দিয়ে কাপড় কাটো)।
২. উপায়াত্মককরণ: যেখানে কোনো বস্তু নয়, বরং কোনো উপায় অবলম্বন করা হয়। (যেমন: বুদ্ধিতে কাজ সিদ্ধ হয়)।
৩. হেত্বর্থককরণ: কারণ বা হেতু বোঝালে। (যেমন: শোকে পাথর হয়ে গেছে)।
৪. লক্ষণাত্মককরণ: কোনো লক্ষণ বা চিহ্ন দ্বারা চেনা গেলে। (যেমন: শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা
যায়)।
৫. কালাধিকরণ করণ: সময়ের মাধ্যমে কোনো কাজ সম্পন্ন হলে।
-করণ কারকের উদাহরণ
১. ছাত্ররা কলম দিয়ে লেখে।
(যন্ত্রাত্মককরণ)
২. লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করা হয়।
৩. আমরা কান দিয়ে শুনি।
৪. টাকায় সব হয়। (উপায়াত্মককরণ)
৫. বড়শিতে মাছ ধরা পড়ে।
৬. শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। (লক্ষণাত্মককরণ)
৭. জোর যার মুলুক তার।
৮. চেষ্টায় সব হয়। (উপায়াত্মককরণ)
৯. মেঘে ঢাকা আকাশ।
১০. মন দিয়ে পড়ো।
১১. পায়ে হেঁটে স্কুলে যাই।
১২. তিল তৈল হয়। (উপায় বা উৎস অর্থে)
১৩. তুলা দিয়ে বালিশ তৈরি হয়।
১৪. বুলবুলিতে ধান খেয়েছে।
১৫. ছুরিতে হাত কেটে গেছে।
চেনার উপায়: সাধারণত করণ কারকে 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক'—এই অনুসর্গগুলো এবং তৃতীয়া ও সপ্তমী বিভক্তি বেশি ব্যবহৃত হয়