সৈয়দ শামসুল হকের ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ (১৯৮২) কাব্যনাটকে মূলত ১৭৮৩ সালের (বাংলা ১১৮৯) ব্রিটিশবিরোধী কৃষক বিদ্রোহ, অন্যায়-অবিচার এবং ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিরোধের মূলভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । রংপুরের নূরলদীনের নেতৃত্বে সাধারণ কৃষকের লড়াই, জাতীয় জাগরণ, এবং শোষিত মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর চেতনা এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
কাব্যনাটকটির মূল বিষয়বস্তু:
- কৃষক বিদ্রোহ ও প্রতিরোধ: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং তাদের সহযোগী জমিদার দেবী সিংহের অত্যাচার, খাজনার বোঝা এবং শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাঙালির জীবনে নেমে আসা অমানিশা এবং এর প্রতিবাদে নূরলদীনের অকুতোভয় সংগ্রাম
- আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার: নাটকটিতে রংপুরের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করে গ্রামীণ জনপদের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে [১]।
- চেতনার জাগরণ: শোষণের মুখে "জাগো বাহে কোনঠে সবায়" (জাগো ভাই, কোথায় সবাই?)—এই আহ্বানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং লড়াইয়ের বার্তা দেওয়া
- নিপীড়িতের কণ্ঠস্বর: শোষিত, বঞ্চতি ও অবহেলিত মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে নূরলদীনকে উপস্থাপন।
সংক্ষেপে, এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক বিদ্রোহের কাহিনী নয়, বরং শোষণের বিরুদ্ধে মানুষের চিরন্তন সংগ্রামের রূপক, যেখানে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে