-উপপদ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন এক ধরনের তৎপুরুষ সমাস যেখানে উপপদ (বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ) এবং কৃদন্ত পদ (ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত পদ) মিলে সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করে এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায়, যা সাধারণত অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়।
-যখন একটি বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ (উপপদ) কোনো কৃদন্ত পদের (ধাতু + প্রত্যয়) সাথে যুক্ত হয়ে সমাস গঠন করে এবং সমস্ত পদে কৃদন্ত পদের অর্থই প্রধান হয়, তখন তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
-এই সমাসে সাধারণত 'যে', 'যিনি', 'যাহা' ইত্যাদি শব্দ লুপ্ত হয় এবং কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের সম্পর্ক বোঝায়।
** এর অপর নাম কৃদন্ত তৎপুরুষ সমাস।
উদাহরণ
-ছেলেধরা: ছেলে ধরে যে (এখানে 'ধরা' হলো কৃদন্ত পদ, 'ছেলে' উপপদ)।
-মাছিমারা: মাছি মারে যে (এখানে 'মারা' কৃদন্ত, 'মাছি' উপপদ)।
-গলাকাটা: গলা কাটে যে (এখানে 'কাটা' কৃদন্ত, 'গলা' উপপদ)।
-পকেটমার: পকেট মারে যে (এখানে 'মারা' কৃদন্ত, 'পকেট' উপপদ)।
-হাড়ভাঙ্গা: হাড় ভাঙে যে (এখানে 'ভাঙ্গা' কৃদন্ত, 'হাড়' উপপদ)।
-পাতাচাটা: পাতা চাটে যে (এখানে 'চাটা' কৃদন্ত, 'পাতা' উপপদ)।
-সত্যবাদী: সত্য বলে যে (এখানে 'বলা' কৃদন্ত, 'সত্য' উপপদ)।
-গৃহস্থ: গৃহে থাকে যে (এখানে 'থাকা' কৃদন্ত, 'গৃহ' উপপদ)।
-ইন্দ্রজিৎ: ইন্দ্রকে জয় করে যে (এখানে 'জয় করা' কৃদন্ত, 'ইন্দ্র' উপপদ)।
-ছাপোষা: ছা (সন্তান) পোষে যে (এখানে 'পোষা' কৃদন্ত, 'ছা' উপপদ)।
-ঘুষখোর: ঘুষ খায় যে (এখানে 'খাওয়া' কৃদন্ত, 'ঘুষ' উপপদ)।
-বর্ণচোরা: বর্ণ চুরি করে যে (এখানে 'চুরি করা' কৃদন্ত, 'বর্ণ' উপপদ)।
-পাড়াবেড়ানি: পাড়া বেড়ায় যে (এখানে 'বেড়ানো' কৃদন্ত, 'পাড়া' উপপদ)।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস থেকে আলাদা, কারণ উপপদ তৎপুরুষে কৃদন্ত পদের অর্থই প্রধান, যা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায় (যেমন - ছেলেধরা মানে যে ছেলে ধরে), কিন্তু ব্যধিকরণে দুটো পদই বিশেষ্য হলেও কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ পায় (যেমন - নীলকণ্ঠ)।