নাটক ও প্রহসনের মূল পার্থক্য হলো উদ্দেশ্য ও শৈলীতে।
- নাটক মানুষের জীবনের গভীর অনুভূতি, দ্বন্দ্ব ও বাস্তবতাকে গম্ভীরভাবে উপস্থাপন করে।
- অন্যদিকে, প্রহসন হলো লঘু হাস্যরসাত্মক নাটক, যা সমাজের ভণ্ডামি বা ত্রুটি-বিচ্যুতিকে অতিরঞ্জিত, ব্যঙ্গাত্মক ও অবিশ্বাস্য পরিস্থিতির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে [ নাটকে কাহিনীর গুরুত্ব বেশি, কিন্তু প্রহসনে হাস্যরস ও অতিরঞ্জনই মুখ্য
নাটক ও প্রহসনের প্রধান পার্থক্যের তালিকা:
- উদ্দেশ্য: নাটক (Drama) জীবনের গভীর সত্য বা রস (ট্র্যাজেডি/কমেডি) ফুটিয়ে তোলে । প্রহসন (Farce) সমাজ সমালোচনা ও শোধনের উদ্দেশ্যে হাস্য-পরিহাস ও ভাঁড়ামোর আশ্রয় নেয়
- কাহিনীর গঠন: নাটকের কাহিনী সুসংগঠিত, গভীর এবং বাস্তবসম্মত হয় । প্রহসনের কাহিনী সাধারণত সংক্ষিপ্ত, অতিরঞ্জিত ও অবিশ্বাস্য ঘটনার সমাবেশে তৈরি হয়
- হাস্যরস ও ব্যঙ্গ: নাটকে হাস্যরস কোমল বা কমেডি নির্ভর হতে পারে। প্রহসনে তা হয় ধারালো, স্থূল, অশালীন বা অতি-নাটকীয় (over-the-top)
- চরিত্র: নাটকের চরিত্ররা বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্বের প্রতিফলন ঘটায় । প্রহসনের চরিত্ররা গতানুগতিক (stereotypical) হয়, যেখানে মাত্রাতিরিক্ত অঙ্গভঙ্গি (horse-play) থাকে
- ব্যাপ্তি: নাটক দীর্ঘ ও জটিল (যেমন: ৫ অঙ্কের ট্র্যাজেডি) হতে পারে । প্রহসন সাধারণত স্বল্প দৈর্ঘ্যের বা একাঙ্কিকা (one-act) হয়
উদাহরণ: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘কৃষ্ণকুমারী’ একটি ট্র্যাজেডি নাটক, আর ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ বা ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ হলো উল্লেখযোগ্য বাংলা প্রহসন